মাদকের টাকা জোগাতে ১৩ মাসের মেয়েকে বিক্রি, ২ মাস পর উদ্ধার

  বিশেষ প্রতিনিধি    21-09-2026    4
মাদকের টাকা জোগাতে ১৩ মাসের মেয়েকে বিক্রি, ২ মাস পর উদ্ধার

গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাতে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় বাবা হামিদুল ইসলাম (৩৩)। মায়ের কোল খালি করা সন্তানকে ২ মাস পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাসহ জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন। গতকাল তাদেরকে রংপুর ও গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও ডিবির যৌথ টিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার সাহারাবাজার (মন্দুয়ার) গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে ও চুরি হওয়া শিশুর বাবা হামিদুল ইসলাম (৩৩), গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর কোমরপুর গ্রামের তয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী মোর্শেদা খাতুন (৪৫) এবং একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (২৮)।

পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে মায়ের কাছে থাকা ১৩ মাস বয়সী কন্যাসন্তান ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে বাড়ি থেকে বাজারে নিয়ে যান। এরপর আব্দুল মজিদ সরকার ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে সন্তানকে ফিরে পেতে শিশুর মা রোমানা খাতুন (২২) আদালতে আবেদন জানালে ২৭ আগস্ট শিশুর বাবার বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারি করে আদালত। পরে গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার এলাকা থেকে প্রথমে হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হামিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট উমরপুর গ্রাম থেকে আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া থেকে মোর্শেদা খাতুনকে এবং জেসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে তার কাছে থেকে বিক্রিত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া উদ্ধার হওয়া শিশুকে মায়ের কাছে হস্তান্তর সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ সুপার জানান, শিশুর বাবা হামিদুল একজন মাদকাসক্ত। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে নেশার টাকা না পেয়ে, মাদকের টাকা জোগাতে নিজের সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন