খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজের তদারকি এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জেলায় ১৮৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫ জন। তবে দীঘিনালা উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী পদে একজনকে পদায়ন করা হলেও পদায়নের দুই মাস পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।
এদিকে জেলার নয়টি উপজেলায় উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো উপজেলাতেই এ পদে একজন কর্মকর্তা কর্মরত নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কর্মকর্তা না থাকায় প্রকৌশল-সংক্রান্ত কারিগরি কাজ, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের তদারকিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে। জেলার এলজিইডিতে এ পদে অনুমোদিত ২৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। তাদের মধ্যে দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড় উপজেলায় একজন করে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি উপজেলাগুলোতে এই পদে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের তদারকি ও কারিগরি কাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু প্রকৌশলী পর্যায়েই নয়, কার্য সহকারী পদেও রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। ৪৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, দীঘিনালায় তিনজন, পানছড়িতে একজন, মহালছড়িতে দুজন, মাটিরাঙ্গায় দুজন, গুইমারায় দুজন, লক্ষ্মীছড়িতে একজন, মানিকছড়িতে একজন এবং রামগড়ে দুজন কার্য সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এলজিইডির কাজের একটি বড় অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। সড়ক নির্মাণ, সংস্কার, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে পর্যাপ্ত প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল প্রয়োজন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত তদারকি, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে।
জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে ঠিকাদারদের কাজেও। এলজিইডির ঠিকাদার কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জনবল সংকটের কারণে ঠিকাদারদের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হলেও সার্ভার জটিলতার কারণে অনেক সময় তা করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে ঠিকাদারদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এতে ঠিকাদারদের সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, জনবল ঘাটতির কারণে ঠিকাদাররা অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করতে পারেন না। কাজের তদারকি পর্যাপ্ত না হলে নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক দায়িত্ব থাকলে প্রতিটি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ঠিকাদারদের বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
এলজিইডির জনবল সংকটের বিষয়ে খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন, এলজিইডি একটি বড় সংস্থা। দপ্তরে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি করতে হয়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কাজে ব্যাঘাত ঘটে এবং একজন কর্মকর্তার ওপর কাজের চাপ বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই তারা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডির সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে উন্নয়নকাজের গতি বাড়বে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখা আরও সহজ হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান আরও বলেন, জনবল ঘাটতি অবশ্যই দপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় সংস্থাটির আওতায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পিচঢালা ও ইটসলিং সড়কের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের সংযোগ রক্ষায় এসব সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে জেলায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজও চলছে। চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ মিটারের কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে নিয়মিত কারিগরি তদারকি ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এ ছাড়া আগামী দিনে জেলার প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নকাজের প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে নতুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পও গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এলজিইডির পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া না হলে প্রকল্পের নিয়মিত তদারকি, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে খাগড়াছড়ির গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা।
খাগড়াছড়িতে এলজিইডির ১৮৯ পদের ১২৮টিই শূন্য
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজের তদারকি এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জেলায় ১৮৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় উপজেলা প্রকৌশলীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৫ জন। তবে দীঘিনালা উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী পদে একজনকে পদায়ন করা হলেও পদায়নের দুই মাস পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।
এদিকে জেলার নয়টি উপজেলায় উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বর্তমানে কোনো উপজেলাতেই এ পদে একজন কর্মকর্তা কর্মরত নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কর্মকর্তা না থাকায় প্রকৌশল-সংক্রান্ত কারিগরি কাজ, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের তদারকিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে। জেলার এলজিইডিতে এ পদে অনুমোদিত ২৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। তাদের মধ্যে দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও রামগড় উপজেলায় একজন করে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি উপজেলাগুলোতে এই পদে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের তদারকি ও কারিগরি কাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু প্রকৌশলী পর্যায়েই নয়, কার্য সহকারী পদেও রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। ৪৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজন, দীঘিনালায় তিনজন, পানছড়িতে একজন, মহালছড়িতে দুজন, মাটিরাঙ্গায় দুজন, গুইমারায় দুজন, লক্ষ্মীছড়িতে একজন, মানিকছড়িতে একজন এবং রামগড়ে দুজন কার্য সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এলজিইডির কাজের একটি বড় অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়। সড়ক নির্মাণ, সংস্কার, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে পর্যাপ্ত প্রকৌশলী ও কারিগরি জনবল প্রয়োজন। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত তদারকি, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে।
জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে ঠিকাদারদের কাজেও। এলজিইডির ঠিকাদার কমল বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জনবল সংকটের কারণে ঠিকাদারদের কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ঠিকাদারদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হলেও সার্ভার জটিলতার কারণে অনেক সময় তা করা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে ঠিকাদারদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এতে ঠিকাদারদের সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি নির্নিমেষ দেওয়ান বলেন, জনবল ঘাটতির কারণে ঠিকাদাররা অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করতে পারেন না। কাজের তদারকি পর্যাপ্ত না হলে নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিক আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক দায়িত্ব থাকলে প্রতিটি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ঠিকাদারদের বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
এলজিইডির জনবল সংকটের বিষয়ে খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন, এলজিইডি একটি বড় সংস্থা। দপ্তরে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি করতে হয়। পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কাজে ব্যাঘাত ঘটে এবং একজন কর্মকর্তার ওপর কাজের চাপ বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই তারা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডির সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলে উন্নয়নকাজের গতি বাড়বে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখা আরও সহজ হবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান আরও বলেন, জনবল ঘাটতি অবশ্যই দপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলায় সংস্থাটির আওতায় প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পিচঢালা ও ইটসলিং সড়কের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের সংযোগ রক্ষায় এসব সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে জেলায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজও চলছে। চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ মিটারের কাছাকাছি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে নিয়মিত কারিগরি তদারকি ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এ ছাড়া আগামী দিনে জেলার প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নকাজের প্রকল্প প্রস্তাবিত রয়েছে। এসব কাজের মধ্যে নতুন সড়ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পও গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এলজিইডির পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া না হলে প্রকল্পের নিয়মিত তদারকি, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করার ক্ষেত্রে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে খাগড়াছড়ির গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: September 19, 2026, 3:08 pm