বৈশ্বিক বাজারে একক আধিপত্য হারাচ্ছে ‘নাইকি’

  বিশেষ প্রতিনিধি    02-10-2026    7
বৈশ্বিক বাজারে একক আধিপত্য হারাচ্ছে ‘নাইকি’

স্পোর্টসওয়্যারের বাজারে বিশাল পরিবর্তন এসেছে যে প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে সেই প্রতিষ্ঠানটিকেই এখন বাজারে আধিপত্য টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাতে হচ্ছে। শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার পর সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্লু-চিপ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ‘এসঅ্যান্ডপি ১০০’ ইনডেক্স থেকেও বাদ পড়েছে নাইকি।

প্রতিষ্ঠানটিকে আগের গৌরবে ফিরিয়ে আনতে দুই বছর আগে অবসর ভেঙে ফিরে আসা প্রবীণ কর্মকর্তা ও সিইও এলিয়ট হিলের নেতৃত্বে একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা শুরু হলেও, এই পরিবর্তনের গতিকে ম্যারাথন গতি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে যখন পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের বিশ্বসেরা ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে সুইজারল্যান্ডের উদীয়মান ব্র্যান্ড ‘অন’-এ যোগ দেন। এর আগে স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও নাইকি ছেড়ে অ্যাডিডাসে যোগ দিয়েছেন। এমবাপ্পে ও ইয়ামালের মতো তারকাদের প্রস্থান নাইকির ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।

নাইকির সর্বশেষ প্রান্তিক রাজস্ব ছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। বিশেষ করে চীনে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব কমেছে ২৬ শতাংশ। ফ্ল্যাগশিপ ‘জর্ডান’ ব্র্যান্ডের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ায় এখন এর উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন অর্থবছরে নাইকির আয় হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩১ সালের মধ্যে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ কমানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের বার্তা দিচ্ছে। আয় ব্যয়ের এই হিসাব প্রকাশের পরপরই নিউ ইয়র্কের শেয়ারবাজারে নাইকির শেয়ার দর ৮ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। নাইকির এই পতনের পেছনে কয়েকটি আত্মঘাতী কৌশলগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন স্পোর্টস রিটার্ল ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট পাওয়েল। তার মতে নাইকি তাদের বিশেষ বা ‘লিমিটেড এডিশন’ জুতা সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ায় কারণে ক্রেতাদের কাছে এর মূল আকর্ষণ কমে গেছে। ইবের সাবেক প্রধান ও নাইকির সাবেক সিইও জন ডোনাহোর আমলে রিটেইল বিক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেবল অনলাইনে নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির ওপর জোর দেওয়া হয়। মহামারীর সময়ে এই নীতি সাময়িক সাফল্য দিলেও পরবর্তীতে এর কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়াও, নতুন উদ্ভাবনে বাজেট বরাদ্দ না করে ডিজিটাল কার্যক্রমে বেশি খরচ করা হয়। এতে পণ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নাইকি তার নিজস্ব অবস্থান হারায়।

ঐতিহাসিক ‘জাস্ট ডু ইট’ স্লোগানের পর নতুন প্রজন্মের মন জয় করতে নাইকি সম্প্রতি ‘হোয়াই ডু ইট?’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। বিশ্লেষক ম্যাট পাওয়েল বিশ্বাস করেন, নাইকি ঘুরে দাঁড়াবে এবং আগামী বছরেই এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কিছুটা পিছু হটলেও ব্র্যান্ডটি তার এক নম্বর অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে। তবে আগের মতো বিশাল আধিপত্য হয়তো আর বজায় থাকবে না বলেও ধারণা করছেন পাওয়েল।

আন্তর্জাতিক-এর আরও খবর

আরও পড়ুন