নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে পাঙাশ-তেলাপিয়া, আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা

  বিশেষ প্রতিনিধি    25-10-2026    6
নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে পাঙাশ-তেলাপিয়া, আমিষের জোগান নিয়ে শঙ্কা

এক সময় যে মাছ কিনলে বাজারের ব্যাগ ভারী হতো, সেই পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের হিসাব মেলাতে দিচ্ছে না। অন্যান্য মাছ আগেই নাগালের বাইরে ছিল। প্রোটিনের শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত এই দুই চাষের মাছও এখন বাজারে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে পরিবারের পাতে মাছের পরিমাণ কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে পাঙাশের দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। তেলাপিয়ার দাম আরও চড়া। মাঝারি আকারের তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়, আর এক কেজির বেশি ওজনের বড় তেলাপিয়ার দাম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ মাঝারি তেলাপিয়ার দামও এখন বড় পাঙাশের প্রায় সমান, যা সাধারণ ক্রেতার জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। রাজধানীর রামপুরা এলাকার বাসিন্দা এরশাদ আলী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। চার সদস্যের সংসারে মাছ কেনার হিসাব এখন তাকে নতুন করে কষতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রুই, কাতলা, বোয়াল, শিংসহ অন্য মাছ তো আমরা কিনতেই পারি না। কিনতাম শুধু পাঙাশ আর তেলাপিয়া। এখন এগুলোর দামও বেশি। তাই মাছ কেনা কমিয়ে দিয়েছি।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্টদের মতে, আমিষের সস্তা উৎস পাঙাশের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের মাছ খাওয়া কমে যাবে। এতে পুষ্টি নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। মাছের খাবারের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে মাছের বাজারে। খাবারের দাম কমানোর জন্য গবেষণায় জোর দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।

দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় যে দুটি মাছের, সেগুলোর দামই এখন সীমিত আয়ের মানুষের সামর্থ্যের সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। আগের তুলনায় তেলাপিয়া ও পাঙাশের দাম বেড়েছে, আর খাবার, পরিবহনসহ নানা খরচের চাপে চাষির পুকুর থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি টাকা। এর ফল ভোগ করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনই। ক্রেতারা আগের অর্ধেক কিনছেন বলে বিক্রিও কমেছে। দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না এলে প্রোটিনের এই সহজলভ্য উৎসও ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের পাত থেকে সরে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন বাজারজুড়ে।

সারাদেশ-এর আরও খবর

আরও পড়ুন