ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাওয়া সৌদি আরব এবার শরণাপন্ন হয়েছে ইসরায়েলের। অন্তত গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সহায়তা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে সৌদি। ইসরায়েলের তিনটি সংবাদমাধ্যম হায়োম, ওয়ালা এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট কূটনৈতিক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের অগ্রসর হওয়া, পেরিমসহ কৌশলগত দ্বীপ দখল এবং সৌদি শহর, বিমানঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর ঘটনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সামরিক সহায়তার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন করেছেন। যদিও রিয়াদ কিংবা জেরুজালেম; কোনো পক্ষই অন-দ্য-রেকর্ড এসব প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
তবে এর পরিধি নিয়ে স্পষ্ট হওয়াটা জরুরি। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং হুমকি শনাক্ত-ম্যাপিং সংক্রান্ত সহায়তার কথা বলা হলেও ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ, বিমান হামলা বা সৈন্য উপস্থিতির কথা বলা হয়নি। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তিবদ্ধ মিত্রদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় এমন কিছুর বদলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সহায়তার অনুরোধ জানানো অনেক কম ব্যয়বহুল এবং সহজেই অস্বীকারযোগ্য এক আবেদন। আর এ কারণেই মক্কা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার চেয়ে রিয়াদের জন্য এই মাধ্যমের ব্যবহার করা সহজ হয়ে থাকতে পারে। এটি কোনো নতুন মাধ্যমও নয়।
ইরানকে কেন্দ্র করে অভিন্ন উদ্বেগ থেকে সৌদি-ইসরায়েল গোপন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের বিষয়টি মক্কা চুক্তির বহু বছর আগে থেকেই বিদ্যমান। এটিকে মক্কা চুক্তির কাঠামোগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট কোনো নতুন পরিস্থিতি নয়, বরং তীব্র চাপের মুখে থাকা বিদ্যমান কোনো গোপন যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বলেই মনে হচ্ছে।
এই চাপ অত্যন্ত বাস্তব এবং বহুমুখী। পেরিম দ্বীপ ছিল সৌদি আরবের কার্যকর তেল রপ্তানি করিডোরগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সচল পথ। গত ১২ সেপ্টেম্বর হুথিরা এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর আগের দিন হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদির পেট্রোলাইন পাইপলাইন অচল হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দৃশ্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ব্রিটেন, মিসর এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছেও সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং গোয়েন্দা তথ্য প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সহায়তা বাড়াতে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। যদিও সরাসরি হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। এই তিন দেশ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-ধাঁচের এমন একটি চুক্তি করেছে, যা যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা বলে গণ্য করে। তাহলে রিয়াদ কেন আঙ্কারা বা ইসলামাবাদের বদলে জেরুজালেমের দিকে তাকাচ্ছে?
এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এর জবাব কেবল চুক্তিটি ‘একেবারেই নতুনের’ চেয়েও আরও পূর্ণাঙ্গ হওয়া উচিত। কারণ রিয়াদ কেবল তার নিরাপত্তা কাঠামোর নবীনতম ও অপরিণত অংশটিকেই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে না। তাদের কাছে বহু পুরোনো ও কার্যকর সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং সম্ভবত তারা এমন এক সক্ষমতা খুঁজছে যা তাদের মুসলিম বিশ্বের অংশীদারদের দেওয়ার মতো অবস্থান নেই।
মক্কা চুক্তির পরও কেন ইসরায়েলের দ্বারে সৌদি?
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাওয়া সৌদি আরব এবার শরণাপন্ন হয়েছে ইসরায়েলের। অন্তত গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সহায়তা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে সৌদি। ইসরায়েলের তিনটি সংবাদমাধ্যম হায়োম, ওয়ালা এবং দ্য জেরুজালেম পোস্ট কূটনৈতিক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুথিদের অগ্রসর হওয়া, পেরিমসহ কৌশলগত দ্বীপ দখল এবং সৌদি শহর, বিমানঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর ঘটনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সামরিক সহায়তার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন করেছেন। যদিও রিয়াদ কিংবা জেরুজালেম; কোনো পক্ষই অন-দ্য-রেকর্ড এসব প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
তবে এর পরিধি নিয়ে স্পষ্ট হওয়াটা জরুরি। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং হুমকি শনাক্ত-ম্যাপিং সংক্রান্ত সহায়তার কথা বলা হলেও ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ, বিমান হামলা বা সৈন্য উপস্থিতির কথা বলা হয়নি। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তিবদ্ধ মিত্রদের কাছ থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় এমন কিছুর বদলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সহায়তার অনুরোধ জানানো অনেক কম ব্যয়বহুল এবং সহজেই অস্বীকারযোগ্য এক আবেদন। আর এ কারণেই মক্কা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার চেয়ে রিয়াদের জন্য এই মাধ্যমের ব্যবহার করা সহজ হয়ে থাকতে পারে। এটি কোনো নতুন মাধ্যমও নয়।
ইরানকে কেন্দ্র করে অভিন্ন উদ্বেগ থেকে সৌদি-ইসরায়েল গোপন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের বিষয়টি মক্কা চুক্তির বহু বছর আগে থেকেই বিদ্যমান। এটিকে মক্কা চুক্তির কাঠামোগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট কোনো নতুন পরিস্থিতি নয়, বরং তীব্র চাপের মুখে থাকা বিদ্যমান কোনো গোপন যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বলেই মনে হচ্ছে।
এই চাপ অত্যন্ত বাস্তব এবং বহুমুখী। পেরিম দ্বীপ ছিল সৌদি আরবের কার্যকর তেল রপ্তানি করিডোরগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সচল পথ। গত ১২ সেপ্টেম্বর হুথিরা এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর আগের দিন হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদির পেট্রোলাইন পাইপলাইন অচল হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দৃশ্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ব্রিটেন, মিসর এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছেও সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং গোয়েন্দা তথ্য প্রদান ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের সহায়তা বাড়াতে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। যদিও সরাসরি হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। এই তিন দেশ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-ধাঁচের এমন একটি চুক্তি করেছে, যা যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা বলে গণ্য করে। তাহলে রিয়াদ কেন আঙ্কারা বা ইসলামাবাদের বদলে জেরুজালেমের দিকে তাকাচ্ছে?
এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এর জবাব কেবল চুক্তিটি ‘একেবারেই নতুনের’ চেয়েও আরও পূর্ণাঙ্গ হওয়া উচিত। কারণ রিয়াদ কেবল তার নিরাপত্তা কাঠামোর নবীনতম ও অপরিণত অংশটিকেই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে না। তাদের কাছে বহু পুরোনো ও কার্যকর সরঞ্জামও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং সম্ভবত তারা এমন এক সক্ষমতা খুঁজছে যা তাদের মুসলিম বিশ্বের অংশীদারদের দেওয়ার মতো অবস্থান নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: September 17, 2026, 8:02 pm