বুধবার, জুলাই-২২, ২০২৬
“চূড়ান্ত নিঃশ্বাসের আগে
যেখানে রূপালি স্বপ্ন সোনায় গলে অনন্ত হয়ে যায়”
সময়ের শেষ নিঃশ্বাস নামার আগে,
যখন আকাশ নিজের নীল নীরবতাকে গুটিয়ে নেয়—
তখন আমার ভাগ্য জেগে উঠুক ভাগ্য না হয়ে,
জেগে উঠুক এমন এক অনন্ত সত্তা, যার নামও নেই ভাষায়।
আমার অস্তিত্বের কালির রেখা হোক বিলীন,
পবিত্র অগ্নিতে, যেখানে শব্দ হারায় তার ব্যাকরণ;
আর আমার প্রতিটি অসম্পূর্ণ বাক্য
শিখে নিক আলোর ভাষায় রূপান্তরের সাধনা।
আমি কখনও শেষ হওয়ার জন্য জন্মাইনি—
আমি জন্মেছি রূপান্তরের অনন্ত রহস্য হয়ে।
আমার রূপালি সময়—ঠান্ডা, নিঃসঙ্গ, অচেনা—
নিয়ে যাক আমাকে সেই অগ্নিকুণ্ডে,
যেখানে নিয়তি নিজেই নিজের অর্থ বদলায়,
আর ব্যথা শেখে সোনায় পরিণত হওয়ার শিল্প।
যদি আমি ভাঙা হয়ে থাকি,
তবে আমার ভাঙন হোক নক্ষত্রমণ্ডলের মানচিত্র;
যদি আমি হারিয়ে গিয়ে থাকি,
তবে সেই হারিয়ে যাওয়া হোক দিকহীন অনন্তের পথ।
যেমন রবীন্দ্রনাথের অদৃশ্য সুর বর্ষার পাতায় কাঁপে,
যেমন বাতাস শেখে শব্দহীন কবিতা—
তেমনই আমার আত্মা শিখুক
অবশেষে শব্দের বাইরে গিয়ে “হওয়া”।
না কোনো বিচার, না কোনো সমাপ্তি—
শুধু রূপান্তর, অবিরাম রূপান্তর।
আর যখন শেষ দিগন্ত খুলবে তার নীরব দরজা,
তখন যেন সে আমাকে শেষ না দেখে—
দেখে এক চলমান অগ্নিসত্তা,
যেখানে রূপালি ভাগ্য গলে সোনায়,
আর সোনা হারিয়ে যায় এমন এক আলোয়—
যার নামও আর মহাকাশের কাছে জানা নেই।