বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাম্প্রতিক বিপর্যয়। সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় দেশের প্রায় ৩০ লাখ শিশু বর্তমানে ১১টি মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে। একসময়ের নির্মূল হওয়া পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার আবার ফিরে আসার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই বিপর্যয়?
অনুসন্ধানে টিকাদান কর্মসূচির এই ভঙ্গুর অবস্থার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. টিকা সংগ্রহে সংকট-টিকা কেনা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
২. সরবরাহ ব্যবস্থায় অচলবস্থা-
টিকার মজুত থাকলেও তা মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা।
৩. জনবল সংকট- স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও কর্মবিরতি টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
যা বলছে ইপিআই ও বিশেষজ্ঞরা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করলেও, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায় ৩০ লাখ শিশু অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, "বর্তমানে দেশে হামের একটি বড় প্রাদুর্ভাব চলছে, যা টিকাদানের ঘাটতিরই সরাসরি ফল। হাম অত্যন্ত সংক্রামক। গণপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় অনেক শিশু দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।"
নির্মূল হওয়া রোগের শঙ্কা
পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও যক্ষ্মার মতো রোগগুলো একসময় সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এখন সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এবং -অপারেশন প্ল্যান- (ওপি) বাতিল সংক্রান্ত জটিলতায় এই সাফল্য ম্লান হতে বসেছে। এ ছাড়া ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও রাতকানা রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।
ড্যাশবোর্ডের তথ্য নিয়ে বিতর্ক
ইপিআই ড্যাশবোর্ডের তথ্য নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন না হওয়ায় তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি সমালোচনার মুখে অনেক ক্ষেত্রে ড্যাশবোর্ড থেকে তথ্য সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য সেবার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
উত্তরণের উপায় কী?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিকল্প অর্থায়ন-ওপি-এর বিকল্প হিসেবে কার্যকর ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ- খালি থাকা স্বাস্থ্য সহকারীর পদগুলো দ্রুত পূরণ করা।
সমন্বিত মনিটরিং-উপজেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন এবং নিয়মিত টিকাদান মনিটরিং জোরদার করা।
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন জাতীয় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি ও সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত ও স্বচ্ছ উদ্যোগ এখন সময়ের দাবী।
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু: ফিরছে নির্মূল হওয়া রোগ, বাড়ছে শঙ্কা
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাম্প্রতিক বিপর্যয়। সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় দেশের প্রায় ৩০ লাখ শিশু বর্তমানে ১১টি মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে। একসময়ের নির্মূল হওয়া পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার আবার ফিরে আসার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই বিপর্যয়?
অনুসন্ধানে টিকাদান কর্মসূচির এই ভঙ্গুর অবস্থার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. টিকা সংগ্রহে সংকট-টিকা কেনা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
২. সরবরাহ ব্যবস্থায় অচলবস্থা-
টিকার মজুত থাকলেও তা মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা।
৩. জনবল সংকট- স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ও কর্মবিরতি টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
যা বলছে ইপিআই ও বিশেষজ্ঞরা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করলেও, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রায় ৩০ লাখ শিশু অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, "বর্তমানে দেশে হামের একটি বড় প্রাদুর্ভাব চলছে, যা টিকাদানের ঘাটতিরই সরাসরি ফল। হাম অত্যন্ত সংক্রামক। গণপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় অনেক শিশু দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।"
নির্মূল হওয়া রোগের শঙ্কা
পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও যক্ষ্মার মতো রোগগুলো একসময় সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এখন সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এবং -অপারেশন প্ল্যান- (ওপি) বাতিল সংক্রান্ত জটিলতায় এই সাফল্য ম্লান হতে বসেছে। এ ছাড়া ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও রাতকানা রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।
ড্যাশবোর্ডের তথ্য নিয়ে বিতর্ক
ইপিআই ড্যাশবোর্ডের তথ্য নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন না হওয়ায় তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি সমালোচনার মুখে অনেক ক্ষেত্রে ড্যাশবোর্ড থেকে তথ্য সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য সেবার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
উত্তরণের উপায় কী?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিকল্প অর্থায়ন-ওপি-এর বিকল্প হিসেবে কার্যকর ও দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ- খালি থাকা স্বাস্থ্য সহকারীর পদগুলো দ্রুত পূরণ করা।
সমন্বিত মনিটরিং-উপজেলা পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন এবং নিয়মিত টিকাদান মনিটরিং জোরদার করা।
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন জাতীয় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি ও সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত ও স্বচ্ছ উদ্যোগ এখন সময়ের দাবী।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সাঈম
|
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিলংজা, কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ৪৭০০
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: July 22, 2026, 4:41 am