পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি বাজার রাখালদেবী। যা আটোয়ারী উপজেলার ৩ নং আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বামনকুমার গ্রামে অবস্থিত । সবুজ মায়াময় অপার সৌন্দর্যে গ্রামীন অবকাঠামো। আকাঁবাকাঁ রাস্তা আর মাঠজুড়ে নতুন ধানের ক্ষেত। এমন একটি সুন্দর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম । সীমান্তবর্তী বামনকুমার গ্রামের এক মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৯৮ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন সারজিস আলম।
সংস্কার আন্দোলনে তার অগ্নিঝরা বক্তব্য, ঝাঁঝালো স্লোগান আর যৌক্তিক কথার জন্য তিনি এখন দেশব্যাপী সুপরিচিত। বাবা আকতারুজ্জামান সাজু, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা বাকেরা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাইয়েরে মধ্যে সারজিস আলম বড়। ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব ঢাকা কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। দাদা তজির উদ্দীন সফল ব্যবসায়ী ও আদর্শ কৃষক। তার পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তার পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। মা- বাবা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, বন্ধুমহল সবার কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রখর মেধাবী ও প্রতিবাদী প্রকৃতির ছিলেন। সারজিসের শিক্ষা জীবনে হাতেখড়ি মায়ের হাত দিয়ে। রুহিয়া প্রগতি কিন্ডারগার্টেন থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে আলোয়াখোয়া তফশিলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে গোল্ডেন প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় বিএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এবার ৪৬ তম বিসিএস প্রিলি: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ক্রিকেট ছিল তার পছন্দের খেলা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব পঞ্চগড় থেকে পেয়েছেন ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট খেতাব। কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে পেয়েছেন অনেক সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা। অমর একুশে হল থেকে ২০২৩ সালে টেবিল টেনিসেও পেয়েছেন পুরস্কার। বিতার্কিক হিসেবেও সারজিস আলম বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ২০২২ সালে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রোকেয়া বিতর্ক অঙ্গন, বিজয় ৭১ ডিবেটিং ক্লাব, সমাজ কল্যাণ ডিবেটিং ক্লাব, কবি জসিমউদ্দিন হল ডিবেটিং ক্লাব প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলোয়াখোয়া তফশিলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সারজিস প্রখর মেধাবী,ভদ্র মার্জিত ছাত্র ছিলেন। তিনি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি সবখানেই প্রথম স্থানের অধিকারী ছিলেন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারজিস সামনে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেছেন দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কদের সাথে। আন্দোলন কিভাবে বেগবান করা যায়, তা নিয়ে সার্বক্ষনিক কাজ করেছেন।
আন্দোলনের সময় ৬ সমন্বয়কারীর সঙ্গে তাকেও ডিবি হেফাজতে নিয়ে গেলে তার পরিবার ও এলাকাবাসী দুশ্চিন্তায় পড়েন। বিশেষ করে তার মা-বাবা ছেলের এমন পরিস্থিতিতে অনেকটাই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। পরে ডিবি হেফাজত থেকে বেরিয়ে তিনি আবারো আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের। শেষমেশ অসহযোগ আন্দোলনের চাপে পড়ে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। জয় হয় ছাত্র জনতার। এ জয়ে তার পরিবার, প্রতিবেশী,এলাকাবাসী,বিশেষ করে তার মা-বাবা সারজিসকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। ছেলেকে ভবিষ্যতে কি বানাবেন সাক্ষাতকারে তার মা-বাবার কাছে জানতে চাইলে বলেন, সারজিস এবার ৪৬তম বিসিএস প্রিলিতে পাস করেছে। ছেলে যেটা চাইবে, সেটাতেই আমাদের সম্মতি আছে, ওর সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মতি দেব। তার এ জয়ে পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশী, এলাকাবাসী, উপজেলা, জেলাসহ সারা দেশের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন অনেকে। তার হাত ধরে সূচনা হবে নতুন বাংলাদেশের। তিনি এখন আমাদের আটোয়ারী-পঞ্চগড়ের গর্ব তথা গোটা বাংলাদেশের গর্ব।
জুলাই অভ্যূত্থানের অন্যতম নায়ক সারজিস আলম
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি বাজার রাখালদেবী। যা আটোয়ারী উপজেলার ৩ নং আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বামনকুমার গ্রামে অবস্থিত । সবুজ মায়াময় অপার সৌন্দর্যে গ্রামীন অবকাঠামো। আকাঁবাকাঁ রাস্তা আর মাঠজুড়ে নতুন ধানের ক্ষেত। এমন একটি সুন্দর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম । সীমান্তবর্তী বামনকুমার গ্রামের এক মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৯৮ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন সারজিস আলম।
সংস্কার আন্দোলনে তার অগ্নিঝরা বক্তব্য, ঝাঁঝালো স্লোগান আর যৌক্তিক কথার জন্য তিনি এখন দেশব্যাপী সুপরিচিত। বাবা আকতারুজ্জামান সাজু, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা বাকেরা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাইয়েরে মধ্যে সারজিস আলম বড়। ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব ঢাকা কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। দাদা তজির উদ্দীন সফল ব্যবসায়ী ও আদর্শ কৃষক। তার পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে তার পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। মা- বাবা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, বন্ধুমহল সবার কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রখর মেধাবী ও প্রতিবাদী প্রকৃতির ছিলেন। সারজিসের শিক্ষা জীবনে হাতেখড়ি মায়ের হাত দিয়ে। রুহিয়া প্রগতি কিন্ডারগার্টেন থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। পরে আলোয়াখোয়া তফশিলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে গোল্ডেন প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় বিএফ শাহীন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এবার ৪৬ তম বিসিএস প্রিলি: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ক্রিকেট ছিল তার পছন্দের খেলা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব পঞ্চগড় থেকে পেয়েছেন ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট খেতাব। কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে পেয়েছেন অনেক সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা। অমর একুশে হল থেকে ২০২৩ সালে টেবিল টেনিসেও পেয়েছেন পুরস্কার। বিতার্কিক হিসেবেও সারজিস আলম বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ২০২২ সালে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রোকেয়া বিতর্ক অঙ্গন, বিজয় ৭১ ডিবেটিং ক্লাব, সমাজ কল্যাণ ডিবেটিং ক্লাব, কবি জসিমউদ্দিন হল ডিবেটিং ক্লাব প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলোয়াখোয়া তফশিলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সারজিস প্রখর মেধাবী,ভদ্র মার্জিত ছাত্র ছিলেন। তিনি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি সবখানেই প্রথম স্থানের অধিকারী ছিলেন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারজিস সামনে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখেছেন দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কদের সাথে। আন্দোলন কিভাবে বেগবান করা যায়, তা নিয়ে সার্বক্ষনিক কাজ করেছেন।
আন্দোলনের সময় ৬ সমন্বয়কারীর সঙ্গে তাকেও ডিবি হেফাজতে নিয়ে গেলে তার পরিবার ও এলাকাবাসী দুশ্চিন্তায় পড়েন। বিশেষ করে তার মা-বাবা ছেলের এমন পরিস্থিতিতে অনেকটাই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। পরে ডিবি হেফাজত থেকে বেরিয়ে তিনি আবারো আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের। শেষমেশ অসহযোগ আন্দোলনের চাপে পড়ে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। জয় হয় ছাত্র জনতার। এ জয়ে তার পরিবার, প্রতিবেশী,এলাকাবাসী,বিশেষ করে তার মা-বাবা সারজিসকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। ছেলেকে ভবিষ্যতে কি বানাবেন সাক্ষাতকারে তার মা-বাবার কাছে জানতে চাইলে বলেন, সারজিস এবার ৪৬তম বিসিএস প্রিলিতে পাস করেছে। ছেলে যেটা চাইবে, সেটাতেই আমাদের সম্মতি আছে, ওর সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মতি দেব। তার এ জয়ে পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশী, এলাকাবাসী, উপজেলা, জেলাসহ সারা দেশের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন অনেকে। তার হাত ধরে সূচনা হবে নতুন বাংলাদেশের। তিনি এখন আমাদের আটোয়ারী-পঞ্চগড়ের গর্ব তথা গোটা বাংলাদেশের গর্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক
এ এম জি ফেরদৌস
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
নাহিদুল ইসলাম ফাহিম
বার্তা সম্পাদক
এ কে এম আবু সায়েম |
প্রধান কার্যালয়
পূর্ব লিংক রোড, ঝিরংঝা, কক্সবাজার
মোবাইল: ০১৮১৯-৫০২-৩২২
ই-মেইল beachnews247@gmail.com |
প্রিন্টের তারিখ ও সময়: February 26, 2026, 5:30 am