মাউশির মহাপরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা তো স্কুল খোলার তারিখ অনেকবার পরিবর্তন করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আমরাও পরিবর্তন হই। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আগের মতোই আছে। এখন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা।’
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ মে খোলার কথা রয়েছে স্কুল-কলেজ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
২৩ মে স্কুল-কলেজ খুলবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। এতে অনিশ্চয়তায় রয়েছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বলছে, করোনা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তারা।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা সব রেডি করে বসে আছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা খুলব। স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত এখনও আগের মতোই আছে।
‘আমরা তো স্কুল খোলার তারিখ অনেকবার পরিবর্তন করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আমরাও পরিবর্তন হই। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আগের মতোই আছে। এখন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা।’ করোনা পরিস্থিতির জন্য গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারেনি সরকার। পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয় এসএসসি ও জেএসসির ফলের ভিত্তিতে। তবে এ বছর এ পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে চায় না সরকার।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুল-কলেজ খোলার পর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাদের পাঠ্যক্রম শেষ করার কথা রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৮৪ দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বলেন, ‘এসএসসি-এইচএসসির ক্ষেত্রে আগের মতোই সিদ্ধান্ত আছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করার পর আমরা পরীক্ষার আয়োজন করব।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো পরীক্ষাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। তবে স্থগিত রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ। গত ৭ এপ্রিল শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বর্ধিত করে নতুন সময়সূচি জানিয়ে দেয়া হবে। শিক্ষা বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা এসএসসি পরীক্ষা। তবে করোনার কারণে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাহত হলো এ উদ্যোগ।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চলতি বছরের জুনের শেষে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা আসে। গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ।
এ বছরের শুরুর দিকে করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ২২ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনা দেয়। এতে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল-কলেজগুলোকে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে সময় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় স্কুল-কলেজ খুলবে ৩০ মার্চ। মার্চে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সরকার ঘোষণা দেয় ঈদের পর ২৩ মে খোলা হবে স্কুল-কলেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *