ইরানের অষ্টম ইমাম রেজার বোন হযরত মাসুমাহের জন্মদিনে কাকতালীয়ভাবে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এক গ্রিক শিক্ষক। সম্প্রতি ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজা’র পবিত্র মাজারে এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ইরানের ‘আসতান নিউজে’র খবরে বলা হয়, ওই তরুণ গ্রিক শিক্ষক তার মুসলিম ছাত্রদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। ধর্মান্তরিত ওই গ্রিক শিক্ষকের নাম গ্রেসিয়াস (৩৪)। নিজের ধর্ম পরিবর্তন সম্পর্কে ফিলাডেলফিয়া থেকে গ্রেসিয়াস বলেন, ‘আমি একটি খ্রিস্টান পরিবারে বড় হয়েছি এবং ধর্ম নিয়ে আমার মনে সবসময়ই প্রশ্ন ছিল; যার উত্তর খ্রিস্ট ধর্মে আমি পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী মুসলিম অভিবাসী এবং তাদের সঙ্গে আমার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া আমার জন্য প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতার দিকে খোলা জানালার মতো।’ এই মুসলিম শিশুদের জীবনধারা এবং আচরণ তাকে এক সুমহান পাঠ শিখিয়েছে মন্তব্য করে গ্রেসিয়াস বলেন, ‘ছাত্রদের সঙ্গে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাকে প্রচুর সুবিধা এনে দেয়, বিশেষ করে ইসলাম এবং শিয়া ধর্মের সঙ্গে আমাকে পরিচিত করে।’ গ্রেসিয়াস বলেন, ‘যথাযথ সম্মান রেখে বলছি যে, এই অভিবাসীদের অধিকাংশই গ্রিসে অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। তারা সেখানে কঠিন পরিস্থিতিতে বাস করছে।’ গ্রীক এই যুবক জোর দিয়ে বলেন, ‘এই প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে তাদের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি তাদের দৃঢ় বিশ্বাস; যার সঙ্গে (আল্লাহ) তারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত প্রার্থনা করার মাধ্যমে কথা বলে থাকেন এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও লম্বা দিন উপেক্ষা করে উপবাস পালন করে।’ তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের সঙ্গে কথা বলতে এবং প্রার্থনার জন্য খ্রিস্টানদের একটি নির্দিষ্ট দিন ও স্থান রয়েছে। কিন্তু মুসলমানদের প্রার্থনার জন্য বিশেষ সময় বা স্থান নেই। খ্রিস্টানরা কেবল গির্জার মধ্যে প্রার্থনা করতে পারে। কিন্তু মুসলিমরা আল্লাহর কাছে যে কোনো মুহূর্তে প্রার্থনা করতে পারেন এবং এটি ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ সুবিধা।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম এবং সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে।’ গ্রিস সরকার দেশটিতে একটি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানিয়ে তিনি এতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রীক অর্থোডক্স চার্চের বিরোধিতা সত্ত্বেও, আমি আশা করি ভবিষ্যতে গ্রীক মুসলমানদের জন্য মসজিদটির দরজা খোলা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এমন একটি দিনে ও পবিত্র স্থানে শিয়া ইসলামে ধর্মান্তরিত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমি একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জীবন প্রত্যাশা করছি।’ আজ সারা বিশ্বের গণমাধ্যমের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেয় না। এ বিষয়ে মুহাম্মাদ জাওয়াদ হাশেমাইনজাদ বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদীদের পরিচালিত মিডিয়াগুলো মানুষকে একে অপরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে দেয় না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বিপর্যয়কর স্থানটিতে মিডিয়া অন্য দেশের কাছে ঘটনাসমূহ তুলে ধরার এবং ইসলামের বাস্তবতা প্রকাশের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। উল্লেখ্য যে, ধর্মান্তর অনুষ্ঠানের শেষে নন ইরানিয়ান ধর্মীয় সংগঠন ‘আস্তান কুদস রাজ্জবী’ কর্তৃক গ্রেসিয়াসকে কোরআনের একটি কপিএবং বেশ কিছু ধর্মীয় বই উপহার দেয়া হয়।

Comments are closed.