দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, লাইন কাটতে গেলে বেঁধে রাখলেন ইউএনও

  বিশেষ প্রতিনিধি    21-06-2024    16
দুই বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, লাইন কাটতে গেলে বেঁধে রাখলেন ইউএনও

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীকে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখলেন কর্মরত আনসার সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র আবাসিক কোয়ার্টার সংলগ্ন আনসার ব্যারাকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানান দেওয়ানগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম মুহাম্মদ ইয়াহিয়া সিদ্দিকী।

এদিকে বেঁধে রাখার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বারান্দার লোহার পাইপের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীকে বেঁধে রেখেছে এবং পাশেই আরেক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী বসে রয়েছেন। এ সময় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন। ওই ভিডিওতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে বলতে শোনা যায় আমি সরকারি কাজ করতে এসেছি, আমি কি সরকারি লোক না? আমাকে এভাবে চোরের মতো বেঁধে রাখতে পারে না। পাশ থেকে আরেক লোক বলতে থাকেন, আপনাকে বলার পর লাইন কেটেছেন কেন? এ সময় আরও শোনা যায় ইউএনও’র নির্দেশে আপনাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারের বেলী-১, হাসনাহেনা-১ ও আনসার ব্যারাকের দুই বছরের পল্লী বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। বৃহস্পতিবার পল্লী বিদ্যুৎ দেওয়ানগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম মো. শেখ ফরিদের নির্দেশে পল্লী বিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ান মো. ইকবাল হোসেন ও লাইন টু লেবেল-১ শাহজামাল ইয়াছিন নামের দুই কর্মচারী বকেয়া বিলের জন্য উপজেলা চত্বরে যান। সেখানে কিছুক্ষণ খুঁজাখুঁজি করে উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারের বেলী-১, হাসনাহেনা-১ ও আনসার ব্যারাকে দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীরা এজিএম মো. শেখ ফরিদকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে মো. ইকবাল হোসেন ও শাহজামাল ইয়াছিন আনসার ব্যারাকের কর্তব্যরত আনসারদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা জানালে আনসার সদস্যরা ইকবাল হোসেনকে আনসার ব্যারাকের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ভুক্তভোগী পল্লী বিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ান মো. ইকবাল হোসেন এই ঘটনার পর একটি ভিডিওতে বলেন, আমাদের স্যার (এজিএম মো. শেখ ফরিদ) ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলার পর আমাকে স্যার বললেন লাইন কেটে দিতে। চেয়ার নিয়ে লাইন কেটে দিতে যাওয়ার সময় বললাম (আনসার সদস্যকে) আমাদের স্যার তো লাইন কেটে দিতে বললেন। উনি বললেন (আনসার সদস্য) দাঁড়ান আমি কথা বলতেছি। তিনি আমাকে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিলেন। ইউএনও স্যার আমাকে পরিচয় দিয়ে বললেন, তুমি কে ইকবাল? বললাম হ্যাঁ, কার সঙ্গে কথা বলে এসেছো? বললাম এজিএম স্যারের সঙ্গে। পরে বললেন আনসারকে দাও, পরে উনাকে (আনসার সদস্যকে) বেঁধে রাখার নির্দেশ দিলেন। পরে আমাকে বেঁধে রাখল।

ইকবাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে মোবাইল ফোনে বলেন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। আমাদের স্যারের নির্দেশে আমিসহ আরেকজন কর্মচারী গিয়েছিলাম। পরে আমাকে ইউএনও’র নির্দেশে রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল। আমাদের আরেকজনকে পাশেই আটকে রেখেছিল।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দেওয়ানগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ইয়াহিয়া সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিল বকেয়া রয়েছে। বেঁধে রাখার ঘটনা দুইপক্ষ মিলে মীমাংসা হয়ে গেছে‌।

কী ধরনের মীমাংসা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী ধরনের মীমাংসা হয়েছে তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না।

এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সকে পাওয়া যায়নি।

সারাদেশ-এর আরও খবর