“একাত্তরের প্রেরণায় জাগো, জাগাও”: সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করলো ‘আমরা একাত্তর’

  বিশেষ প্রতিনিধি    08-06-2024    85
“একাত্তরের প্রেরণায় জাগো, জাগাও”: সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করলো ‘আমরা একাত্তর’

শনিবার (৮ জুন) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘একাত্তরের প্রেরণায় জাগো, জাগাও’- প্রতিপাদ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ‘আমরা একাত্তর’-এর ১ম জাতীয় সম্মেলন ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তারুণ্যের সম্মিলনে এ সাংগঠনিক যাত্রা শুরু করলো।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন আমরা একাত্তর এর প্রধান সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী। তিনি বলেছেন, অন্ধকারের শক্তি মাথা উঁচু করে আছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। পদ্মা সেতু নির্মাণে যারা বাধা দিয়েছিল তাদের চিহ্নিত করে রাষ্ট্র অবশ্যই শাস্তি দিবে। সব অর্জনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। নবপ্রজন্মকে বিকাশ করার লক্ষ্যে ‘আমরা একাত্তর’ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরে ৫৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে স্যালুট দিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন নতুন প্রজন্মের ৫৩ প্রতিনিধি। প্রত্যুত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা ওদের হাতে তুলে দিল পতাকা আর এগিয়ে যাবার শপথ। আমরা বিজয় এনেছি, এবার তোমরা এগিয়ে যাও। এসময় এক আনন্দ ও আবেগ ঘন মুহুর্ত্য পরিবেশ তৈরী হয়েছিল !!!

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘আমরা একাত্তর’-এর ১ম জাতীয় সম্মেলন পরিণত হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মিলনমেলা। এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ অসুস্থ শরীরেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। সম্মাননা প্রাপ্ত ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেন কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর উত্তম), মেজর ওয়াকার (বীর প্রতীক), হারুন হাবিব, এম হামিদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, হাবিবুল আলম (বীর প্রতীক), মফিদুল হক,মেজর রফিক, কাজী কামাল উদ্দিন ইকরাম, জিল্লুর রহমান দুলাল, মকবুল ই এলাহী মসগুল, মোস্তফা আমিন, খায়রুল আহসান খাঁন,আনোয়ার হোসেন, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মোহাম্মদ শাহ আলম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, প্রদিপ চক্রবর্তী, সোহেল আহমেদ,রুহেল আহাম্মেদ বাবু, এনামুল হক খসরু, ইসমাত কাদির গামা, কার্তিক চ্যাটার্জি, অজয় দাস গুপ্ত, শেখ কবির আহাম্মেদ, ওসমান গনি, পিজুস বন্দোপাধ্যায়, মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী, ডাঃ আমজাদ হোসেন, আব্দুর রউফ, আব্দুল গনি, রফিকুল ইসলাম, মোঃ নুর উদ্দিন মিন্টু, ডাঃ দিপা ইসলাম, মিজানুর রহমান খাঁন (বীর প্রতীক), মাহবুব এলাহী (বীর প্রতীক), মোজ্জাম্মেল হক (বীর প্রতীক), মোঃ আবুল হায়াত মিয়া, এনামুল হক চৌধুরী খসরু, বোরহান উদ্দিন মিঠু, আবু আকাশ, মোঃ রফিকুল আলম, এম এ সামাদ, ডাঃ ফাউজিয়া মসলেম, দিল আফরোজ দিলু, রোকেয়া কবির, ডা. দীপা ইসলাম, লক্ষ্মী চ্যাটার্জি, নাসিমুন আরা হক মিনু, আনোয়ার জাহিদ, এ এস এম সবুর, আবুল কালাম আজাদ, এনায়েত হোসেন, শ্যামল শিংহ রায়, আব্দুস সামাদ পিন্টু, সাইদুল ইসলাম।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মৃণাল সরকারের সঞ্চালনায় আমরা একাত্তরের চেয়ারপারসন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি শহীদ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনের পুত্র জাহিদ রেজা নূর, অনুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা, এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার, অ্যান্টার্কটিকা বিজয়ী মহুয়া রউফ, আয়রন ম্যান ইমতিয়াজ ইলাহি ও নৃত্যশিল্পী পূজা সেন গুপ্ত প্রমূখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মহুয়া রউফ বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। জাহিদ রেজা নূর বলেছেন, বাংলাদেশের জেনোসাইডের স্বীকৃতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ চলছে। জেনোসাইড শুধু গণহত্যা নয়, এর মধ্যে অনেক কিছু রয়েছে। সেঁজুতি সাহা বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, এখানে যে কোনো কেউ বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে। সেটা ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। তিনি নারী হোক বা পুরুষ হোক। নিশাত মজুমদার বলেছেন, হিমালয় পর্বতমালার জন্য বাংলাদেশের জন্ম। সেই হিমালয় পর্বতমালার আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে বাংলাদেশের কেউ হিমালয় পর্বতে যাবে না, এভারেস্টকে ছোঁবে না তা হয় না। দুর্লভ্যকে লঙ্ঘন করাই আমাদের প্রবৃত্তি। সুতরাং বাংলাদেশ মানে সম্প্রীতি।

মাহফুজা জেসমিন বলেছেন, ২০২২-২৩ থেকে আমরা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে সংগঠিত জেনোসাইডের স্বীকৃতি আদায়ে দেশ-বিদেশে প্রচারাভিযান জোরদার করে তুলছি। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে একাত্তরের বাংলাদেশ জেনোসাইড ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসে প্রবাসী দেশবাসিদের মহতি উদ্যোগে সংযুক্ত হই। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্মেলনে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আমরা একাত্তর’ আয়োজন করে এক আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

দুপুর দেড়টায় সংগঠনের চেয়ারপার্সন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামানের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হয়। মধ্যাহ্ন ভোজনের বিরতির পর দুপুর তিনটায় শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। সমাপনি বক্তব্যে আমরা একাত্তরের চেয়ারপারসন মাহবুব জামান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার বিজয়টা এনে দিয়েছে নতুন প্রজন্ম। তাই নব প্রজন্মের উপরে আমরা খুবই আশাবাদী। আমাদের শ্লোগান হলো একাত্তরের চেতনায় জাগো, জাগাও। অর্থাৎ নিজে জাগতে হবে অন্যকেও জাগাতে হবে। আর সেই জাগরণের প্ল্যাটফর্মই ‘আমরা একাত্তর’। উল্লেখ্য, সীমাহীন অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্য ও নৈতিক বিপর্যয় রুখে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, ন্যায় ও সমতাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমাজে নতুন জাগরণ সৃষ্টির প্রয়াসে কয়েক বছর আগে অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ‘আমরা একাত্তর’। প্রথম সম্মেলনের এই অভাবনীয় সাফল্য আমাদের আরো উজ্জীবিত করেছে। আরো দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো।ফিরিয়ে আনবো আমরা বিজয়ের গৌরবগুলোকে। আসুন, আমরা সবাই একত্রিত হই।…. জয় বাংলা !!!

জাতীয়-এর আরও খবর