চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন ২৮ নভেম্বর। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচন করছেন একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।
দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ইন্ধন থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা দাপুটে প্রচারণা চালাচ্ছেন। যার ফলে নির্বাচন পরিস্থিতি দিনদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীদের গোপন সমর্থন দেওয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে নির্বাচন পরিস্থিতি। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের হুমকিতে অনেক আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হতাশও হয়ে পড়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর হোসেন আরিফ। এতে শক্তি দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে নেমেছেন। তৎমধ্যে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ইন্ধন যোগাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বলয় সৃস্টি করতে গোপনে কাজ করায় শংকিত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই আসনের শীর্ষ জনপ্রতিনিধির ইন্ধনে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিম। নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার জন্য নেতাকর্মীদের চাপ প্রয়োগ করছেন তিনি। এতে নেতাকর্মীরা বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে।
একই কায়দায় রাজাখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নুর। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ সৈয়দ নুর এর প্রতি দলের প্রভাবশালী নেতার গোপন সমর্থন রয়েছে। যার ফলে যেকোন মূহুর্তে এলাকায় সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে হারাতে গত ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী শরাফত উল্লাহ ওয়াসীম পক্ষে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গোপনে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠে। একই ভাবে চকরিয়া উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে কৈয়ারবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জান্নাতুল বকেয়ার রেখার পক্ষে দলের কেউ নেই এমন অভিযোগ রয়েছে।
কাকরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিপক্ষে নির্বাচন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন।
তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও উপরি মহলে আশির্বাদ আছে বলে এলাকার প্রচার রয়েছে। শাহারবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচনে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন বাবলু। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনে নামিয়েছেন নবী হোসেন চৌধুরী। ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে সমাজ বিরোধী বড় ধরণের অভিযোগ থাকলেও তাঁর পক্ষে গোপনে কাজ করছেন ওই প্রভাবশালীরা। লক্ষ্যাচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খ.ম বুলেট এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম।
গত ইউপি নির্বাচনে দরীয় ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি এমন অভিযোগ রয়েছে। কোনখালীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত জাফর আলম ছিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদার। বর্তমানে এই ইউনিয়নের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে যেকোন মুহুর্তে সংঘাত হতে পারে।
চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে পছন্দনীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। শেখ হাসিনার নৌকার পক্ষে তাঁরা নেই। গত পৌরসভা নির্বাচনেও একই ভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ওই প্রভাবশালীরা কাজ করেছেন।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, বিদ্রোহী ও মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁদের তালিকা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা আওয়ামী লীগ কাজ করছে। যারা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরোধীতা করবে তাদের বিষয়টি কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা চাই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীক বিজয়ী করতে। এর বাইরে বলার কিছু নেই।
চকরিয়া-পেকুয়ার এএসপি সার্কেল তফিকুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে যাতে কোন সংঘাতের সৃষ্টি না হয় সেদিকে আমরা তীক্ষè নজর রাখছি। আশাকরি, সকলের সহযোগীতায় শান্তিপুর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এই পর‌্যান্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *