ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি জোনাথন ভ্যান ডের ক্লাউ বলেন, ‘কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও টেকশই প্রত্যাবাসনে তাদের প্রস্তুত করা। তাদের ভবিষ্যৎ মিয়ানমারেই, যেখান থেকে তারা এসেছেন।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ মিয়ানমারেই বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি জোনাথন ভ্যান ডের ক্লাউ। বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত করতেই কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তারা।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি জোনাথন ভ্যান ডের ক্লাউ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগ বাংলাদেশকে তাদের রোহিঙ্গা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি এনজিওর কার্যক্রমকেও সহযোগিতা করবে।

‘কক্সবাজারের মতো ভাসানচরেও আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও টেকশই প্রত্যাবাসনে তাদের প্রস্তুত করা। তাদের ভবিষ্যৎ মিয়ানমারেই, যেখান থেকে তারা এসেছেন।’

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি বলেন, ‘এই সমঝোতা সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি ভাসানচরে মানবিক ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এই সমঝোতা চলমান রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে সরকার ও জাতিসংঘের আন্তরিকতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। সেই সঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে সহযোগিতায় বাংলাদেশকে লাগাতার সমর্থনে জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই সমঝোতা।’

2481.jpg
এর আগে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক কার্যক্রমের বিস্তার বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। এতে সই করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহসীন ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি জোনাস ভ্যান ডেক ক্লাউ।

এই সমঝোতার ফলে ভাসানচরে খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, চিকিত্সাসহ মানবিক কার্যক্রমে সরকারকে সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ।

এ সময় দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুল রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার বা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা সাময়িক। আমাদের মূল লক্ষ্য মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় দ্রুত এ কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো শুরুতে আপত্তি তুললেও ভাসানচর ঘুরে দেখে তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলো ইউএনএইচসিআর।

কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে দেখা দেয় নানা সামাজিক সমস্যা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কয়েক ধাপে ভাসানচরে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৫৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় আশ্রয় নেয়া মোট রোহিঙ্গা শরণার্থী ১১ লাখের ওপরে। সরকারের লক্ষ্য আরও ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে চলতি বছরের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অন্তত ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি, পররাষ্ট্রসচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছিলেন, ‘ইউএন হলো ম্যান্ডেট। পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় এ ধরনের শরণার্থী যদি হয়, তারাই লুক আফটার করবে। ইউএন গেলে অবশ্যই আমাদের জন্য সুবিধা। রোহিঙ্গাদের খাদ্যের চিন্তা করতে হবে না। পুরো ম্যানেজমেন্ট ইউএন করবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *