আফরোজা খান রীতাকে সভাপতি ও এস এ কবীর জিন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির দুই শাখায় নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিলুপ্ত করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।

কার্যত, করোনা সংক্রমণের দেড় বছর সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে দলটিতে। উদ্দেশ্য, ডিসেম্বরের আগেই আন্দোলনমুখী নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন গোছানো। এরপর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে রাজপথে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। ডিসেম্বরের মধ্যেই মাঠে নামতে চায় দলটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি একটি রোডম্যাপ তৈরি করছে। সে লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দল গোছানোর কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। করোনাকালে দীর্ঘ সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। বিএনপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটি দেওয়া হচ্ছে। অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই দল গোছানোর কার্যক্রম চলছে।’

জানা যায়, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ‘ঢাউস’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সিরিজ বৈঠক করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। পর্যায়ক্রমে পেশাজীবী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও বসবে বিএনপি। গত রাতে ঢাকা বারের আইনজীবীদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে অভিযোগ করা হয়, দ্বাদশ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলাগুলোতে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে ঢাকা বারের আইনজীবীদের মতামত নেন তারেক রহমান। গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জানা যায়, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করা যায়-এই মুহুর্তে এটাই একমাত্র ভাবনা বিএনপির। এ লক্ষ্যে কর্মপন্থা ঠিক করতে একের পর এক বৈঠক করে চলছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নীতিনির্ধারকরা। কর্মপন্থা চূড়ান্ত করার পর পরিস্থিতি বুঝে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি করবে বিএনপি। রাজপথে নামার আগেই নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে জনগণের দাবিতে পরিণত করতে চায়। এ লক্ষ্যে ঘরোয়াভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নিয়ে সভা-সেমিনার করবে দলটি। গত শনিবার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য আগামী ১ অক্টোবর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে বেছে নিয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে বিএনপি দেশের পেশাজীবীদেরও মতামত নেবে। বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় আগামী ৮ অক্টোবর বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়াও ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি। এসব অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির নেতারা অংশ নেবেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত¡ বধায়ক সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। আমাদের স্পষ্ট কথা, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। চেষ্টা করলে প্রতিরোধ করা হবে, বাধা দেওয়া হবে। সেই বাধার মুখে সরকার টিকে থাকতে পারবে না।’

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যতম অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল এবং ওলামা দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি যে কোনো সময় বিলুপ্ত করা হতে পারে। আর ছাত্রদলও গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ করেছে। সব কমিটিতেই আসতে পারে নতুন নেতৃত্ব। করোনাভাইরাসের কারণে দফায় দফায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখে বিএনপি। বর্তমানে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু হ্রাস পাওয়ায় গত ১২ সেপ্টেম্বর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। তবে এই সময়েও জরুরি কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কমিটি দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তরে ৪৭ সদস্য ও দক্ষিণে বিএনপির ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্‌বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম ও পুনর্গঠন স্থগিত থাকলেও সীমিত আকারে চলছিল। এখন সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। দল পুনর্গঠনের মাধ্যম আমরা আরও বেশি সংগঠিত হতে পারব। এরপর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের জন্য চূড়ান্ত আন্দোলনে নামব আমরা। তিনি বলেন, বর্তমান স্বৈরাচার এবং নব্য বাকশাল সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *