কক্সবাজারে হবে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২৫ একর জমির উপর  এটি গড়ে তোলা হবে।এর জন্য ইতিমধ্যেই জায়গা বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
দৈনিক কক্সবাজারের নিয়মিত সাপ্তাহিক আয়োজন ফেসবুক লাইভ ‘সাতকাহন’ এ আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে স্থানীয় সরকারের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন।
দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় শনিবার রাত ৯ টার  ফেসবুক লাইভে তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অন্য জেলায় নেয়ার চেষ্টা করেছে অনেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চান এটি কক্সবাজারেই হোক। এখানে দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের ফুটবলাররা এসে প্রশিক্ষণ নেবেন। কেন্দ্রে ডরমেন্টুরি, জিম এবং ফুটবাল মাঠ সহ আরো আনুসাঙ্গিক অনেক কিছুই থাকবে।
 ‘প্রাকৃতিকে দূর্যোগে বিপর্যস্ত কক্সবাজার’ শীর্ষক আলোচনায় সিনিয়র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদেরকেও বুঝতে হবে। সেজন্যই আমাদের স্থানীয়দের এই জেলার উন্নয়নকে টেকসইয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। যদি তা না পারি তাহলে কিন্তু পাহাড়ি ঢল, ঘূর্ণিঝড় আমাদের বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যারা পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা যদি না করি তাহলে বারবার জলোচ্ছাস হবে, বারবার ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের বেড়িবাধ ভেঙ্গে লবনাক্ত পানি ডুকবে। অতিবর্ষণে পাহাড়ি ঢল আসবে। এগুলো যদি আমরা স্থানীয়ভাবে মোকেবেলা না করি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসকারীদের জন্য আমরা রুখে না দাড়ায় তাহলে কক্সবাজারের কোন উন্নয়নই টেকসই হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমার জন্ম কক্সবাজার শহরে। আমার বাবা বনবিভাগে চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে আমরা দেখেছি কক্সবাজারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বলতে শুধু মাত্র ঘূর্ণিঝড় ছিল। আমরা কখনো পাহাড়ি ঢল, বন্যা দেখিনি।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জলোচ্ছাস হত। জলোচ্ছাসে ১৯৬০ সালে ১৯৯১ সালে ও ১৯৯৭ সালে যে ঘূর্ণিঝড় হয় এতে আমাদের  জানমালের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে আমাদের এখানে পাহাড়ি ঢল হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে আমাদের অনেকগুলো খাল ও ছড়া রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বান্দরবানে যদি অতিবৃষ্টি হয় তাহলে খাল দিয়ে পানি সাগরে পতিত হয়। কিন্তু আমাদের খাল ও ছড়াগুলো পাহাড়ি মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে ওগুলোর প্রশস্ততা এবং গভীরতা কমে গেছে। যার কারণে উজানের পানি খাল ছড়া দিয়ে প্রবাহিত হতে পারেনা। সেজন্য পাহাড়ি ঢলে লোকালয়ে ডুকে। এতে মানুষের দুর্ভোগ হয়। একসময় আমরা কক্সবাজার জুড়েই গভীর বন দেখেছি যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করত না।
ইদানিংকালে বেশ কয়েকবছর ধরে গাছ কাটা হয়েছে। নতুন কোন গাছ রোপন করা হয়নি। আর ব্যাপক সংখ্যক পাহাড় কাটা হয়েছে। এছাড়া ইদানিং খাল নদীর উজানের দিক থেকে বালু উত্তোলনের কারণে খালও নদীর পাড় ভেঙ্গে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ ঠিকমত হচ্ছে না। কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভুমি কেটে সমতল করে বসতঘর করছে লোকজন। কিন্তু বান্দরবান, রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়িতে যেসব উপজাতি পাহাড়ে বসবাস করে তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়না। ওখানে ভুমিধস হয়না। কারনটা হলো তারা পাহাড়ের ঢালুতে বিভিন্ন সাইজের বাশ দিয়ে টংঘর বাঁধে। এতে পাহাড়ের ক্ষতি হয়না। কিন্তু আমরা যারা বাঙ্গালি তারা গিয়ে প্রথমে পাহাড়টা সমতল করি। তারপর অবৈধভাবে বাড়ি করি। এরফলে বর্ষণে পাহাড়ে মাটি নালা নর্দমায় এসে ভরাট হয়ে যায়। এই কারণে কক্সবাজারে শহরে জলবদ্ধতা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে মূল বিষয়, যে দূর্যোগ হয়েছে সেটা প্রকৃতিকে ধ্বংস করার কারণে। বনজঙ্গল, গাছপালা পাহাড় কাটার কারণে খাল ভরাট হয়ে অতি প্লাবন দেখা দিয়েছে।
হেলালুদ্দীন বলেন, প্লাবনে ভেঙ্গে যাওয়া জেলার রাস্তাগুলো অতিদ্রুত সংস্কারের নির্দেশে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাধ সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
ফেসবুক লাইভ সাতকাহনে আরো উপস্থিত ছিলেন
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ্ রেজওয়ান হায়াত, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের ও একাত্তর টেলিভিশনের কক্সবাজার প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম মিন্টু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *