বিপদাপদে মানুষ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে। অনেকের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। অথচ সকল বিপদাপদ থেকে হিফাজতকারী হলেন আল্লাহ।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কঠিন বিপদাপদের মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য লাভের কথা বলেছেন। এমনকি আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য দোয়াও রয়েছে-

উচ্চারণ : লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কারো (ভালো কর্মের দিকে) এগিয়ে যাওয়া এবং (খারাপ কর্ম থেকে) ফিরে আসার সামর্থ্য নেই।

শয়তানের কোনো ওয়াসওয়াসা বা দূরভিসন্ধিমূলক প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য বেশি করে এটি পড়া উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ فَإِنَّهَا كَنْزٌ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ তুমি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বেশি বেশি বলো। কেননা তা জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত।

মাকহুল (রহ.) বলেন, যে লোক ‘লা হাওলা ওয়াল কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি’ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার হতে সত্তর প্রকারের অনিষ্ট অপসারণ করেন এবং এগুলোর মাঝে সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিপদ হলো দরিদ্রতা। (তিরমিজি ৩৬০১)।

উপকার

আবু মুসা (রা.) বলেন, আমরা কোনো এক সফরে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন মানুষ উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে মানবজাতি, তোমরা জীবনের ওপর সদয় হও। কেননা তোমরা তো কোনো বধির অথবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। নিশ্চয়ই তোমরা ডাকছো সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী সত্তাকে, যিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন।’

আবু মুসা (রা.) বলেন, আমি তার পিছে ছিলাম। তখন আমি বলছিলাম, আল্লাহর সহযোগিতা ছাড়া কোনো ভালো কাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং মন্দ কর্ম থেকে ফিরে আসার সামর্থ্য নেই।

তখন হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স, আমি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্যে কোনো একটি গুপ্তধনের কথা জানিয়ে দেব? আমি বললাম, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, অতঃপর তিনি বলেন, তুমি এই (উপরোক্ত) দোয়া পড়ো। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৫৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *