অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের আসন্ন মৌসুমের জন্য তিনটি নতুন নিয়মের প্রবর্তন করেছে আয়োজকরা। যা সফল হলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বদলে দেয়ার মতোই এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আগামী ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া বিগ ব্যাশে কার্যকর হবে এ তিন নতুন নিয়ম। এগুলো হলো পাওয়ার সার্জ, এক্স-ফ্যাক্টর এবং ব্যাশ বুস্ট। টুর্নামেন্টের দশম আসরটিকে আরও বর্ণিল ও উত্তেজনাপূর্ণ এ নিয়মগুলো যোগ করা হয়েছে।

পাওয়ার সার্জ
এ নিয়মের আওতায় টি-টোয়েন্টি স্বাভাবিক পাওয়ার প্লে দুই ভাগ করা হবে। অর্থাৎ আগে যেমন ইনিংসের প্রথম ছয় ওভার ছিল পাওয়ার প্লে, এখন সেটি হবে ৪ ওভারের। পাওয়ার প্লে’র বাকি দুই ওভার ইনিংসের দশম ওভারের পর যেকোন সময় নিতে পারবে ব্যাটিং দল।

এক্স-ফ্যাক্টর
ওয়ানডে ক্রিকেটে আগে যেমন সুপার সাব ছিল, তেমনই এবার বিগ ব্যাশে আসছে এক্স-ফ্যাক্টর। তবে পুরোপুরি ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রথম ইনিংসের দশ ওভার পর দুই দলই চাইলে তাদের দলের ১২ বা ১৩ নম্বর খেলোয়াড়কে একাদশে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে এমন একজন খেলোয়াড়কে তুলে নিতে হবে যিনি তখনও ব্যাটিং করেননি অথবা এক ওভারের বেশি বোলিং করেননি।

এই এক্স-ফ্যাক্টর নিয়মটি শুধুমাত্র প্রথম ইনিংসের ১০ ওভার পরই প্রযোজ্য হবে। যেমন কোনো বোলার বা ফিল্ডার যদি প্রথম ওভারেই ইনজুরি আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে তখনই বদলানো যাবে না। এক্স-ফ্যাক্টর খেলোয়াড়কে নামানোর জন্য ১০ ওভার শেষ হওয়ার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ব্যাশ বুস্ট
সাধারণত যেকোনো ম্যাচ জিতলে বিগ ব্যাশে ৩ পয়েন্ট দেয়া হয়। তবে এবারের আসরে থাকবে ৪ পয়েন্ট। ম্যাচের জয়ী দল পাবে ৩ পয়েন্ট এবং ১টি থাকবে বোনাস পয়েন্ট। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের ১০ ওভার শেষে দুই দলের স্কোর দেখা হবে। নিজেদের ১০ ওভার ব্যাটিং শেষে যারা এগিয়ে থাকবে তারা পাবে বোনাস ১ পয়েন্ট। দুই দলের স্কোর সমান হলে ০.৫ পয়েন্ট করে দেয়া হবে দুই দলকেই।

এই নতুন তিন নিয়ম আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন বিগ ব্যাশের খেলোয়াড় বাছাইকর্তা ও পরামর্শক ট্রেন্ট উডহিল। তার বিশ্বাস নতুন এ নিয়মগুলো ক্রিকেট ম্যাচে কোচের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াবে এবং ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নতুন নতুন চিন্তার উদ্ভব ঘটাবে।

ক্রিকইনফোকে উডহিল বলেছেন, ‘নতুন নিয়মগুলো কোচদের ভিন্নভাবে ভাবার পথ খুলে দেবে, তারা যা চাইবে তা করার একটা সুযোগ পাবে। শুরুতে হয়তো কেউ কেউ এটা অপছন্দ করবে তবে এর বাইরে ভালো কোন সমাধানও নেই। অন্যান্য খেলায় এসব নিয়ম ঠিকই ব্যবহৃত হচ্ছে।’

নতুন এসব নিয়ম ক্রিকেটের সম্মানে কোন আঘাত হানবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের আভিজাত্যটা মূলত হাই পারফরম্যান্স এবং ব্যাট-বলের লড়াইয়ের মধ্যেই নিহিত। নতুন নিয়মগুলো শুধুমাত্র বাড়তি উত্তেজনাই যোগ করবে। ক্রিকেটের স্বাভাবিক পথচলায় সমস্যা করবে না।’

আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে বিগ ব্যাশের এবারের আসর। শুরুর দিকের ম্যাচগুলো সব হবে হোবার্ট ও ক্যানবেরায়। পরে ডিসেম্বরের শেষদিকে টুর্নামেন্ট চলে যাবে কুইন্সল্যান্ড ও এডিলেইডে। জানুয়ারির ম্যাচগুলোর ভেন্যু এখনও ঠিক করা হয়নি। ভ্রমণজনিত নিয়মকানুন বিবেচনায় রেখে এটি নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *