উখিয়া উপজেলার পালংখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ১৬৯ পরিবারের ১১টি মহিলা দলপ্রতি ৭১,২০০ টাকা করে মোট ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ২০০ টাকার অনুদান প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-কোস্ট ট্রাস্ট।

এককালীন এই সহায়তার মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহ আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ করে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে এবং তাদের পরিকল্পিত পেশা বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কোস্ট ট্রাস্টের একর্ড প্রকল্পের আত্মনির্ভরশীল দলে আর্থিক সহায়তা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিত তালুকদার।

তিনি বলেন, কোস্ট ট্রাস্টের কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এগিয়ে যাবে।

অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির প্রতি প্রাধান্য দেওয়ার উপর জোর দেন প্রধান অতিথি।

তিনি উপকারভোগীদেরকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মোজাফফর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী, রাশেদা বেগম (মেম্বার-৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড), রিজিয়া বেগম (মেম্বার ১,৫,৬ নং ওয়ার্ড), উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কমরুদিদন মুকুল এবং উখিয়া প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রফিক উদ্দিন বাবুল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট একর্ড প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার অরিফুল্লাহ।

আরো উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ট্রাস্টের উখিয়া ত্রাণ পরিচালনা কেন্দ্রের টিম লিডার রেজাউল করিম, প্রকল্প সমন্বয়কারী তাহরিমা আফরোজ টুম্পা, মামুনুর রশিদ, শওকত আলম, রোকেয়া বেগম, মহিউদ্দিন সহ পালংখালী ইউনিয়নের ১১টি দলের ২২ জন উপকারভোগী।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের ফলে উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০০ পরিবারের আর্ত-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন আয় বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই কোস্ট একর্ড প্রকল্পের মূল বিষয়।

তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের দাতা সংস্থা মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল-জার্মানী।

উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় স্থানীয় জনসাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে প্রথমদিকে আশ্রয় দিলেও এখন তারা নানা নেতিবাচক প্রভাবের শিকার। ফলে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহ যাতে স্থায়িত্বশীল অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে আত্ম-নির্ভরশীল দলের সদস্যদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এই সহায়তার মাধ্যমে প্রকল্পের উপকারভোগীগণ তাদের পবিকল্পিত পেশা বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবার সমূহ নিজস্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে আর্থিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়া, কমিটি গঠন এবং নিজেরা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা শিখবে।

প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, উখিয়া উপজেলায় কোস্ট ট্রাস্টের কার্যক্রম খুবই প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের ফলে উখিয়ায় যে আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা লাঘবের লক্ষ্যে সমন্বিত ভাবে কাজ করা সকলের দায়িত্ব।

তিনি তার পক্ষ থেকে সকলকে সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেল চৌধুরী বলেন, অধিকাংশ প্রকল্প ই খুব কম সময়ের জন্য কাজ করে সেখানে আপনাদের প্রকল্পটি তিন বছর মেয়াদের। তাই আমি অনুরোধ করব এ সময়টাতে কারিগরি প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কোস্ট ট্রাস্টের টিম লিডার রেজাউল করিম তার স্বাগত বক্তব্যে কোস্টের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন।

তিনি এও বলেন, কোস্ট ট্রাস্ট সবসময় স্থানীয় জনসাধারণের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। নিজেদের সম্পদ এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। এই অনুদান ক্ষতিগ্রস্থ উপকারভোগীদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক ও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্প সমন্বয়কারী তাহরিমা আফরোজ শুরুতে ই একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে তুলে ধরেন এবং এ আর্থিক সহায়তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *