লাইফস্টাইল ডেস্ক:
ডায়াবেটিসকে বলা হয় নীরব ঘাতক। ভেতরে ভেতরে কখন সে আপনাকে নিঃশেষ করে ফেলবে, সচেতন না থাকলে তা টের পাওয়া মুশকিল। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬৩ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৮৮ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এমনটাই প্রকাশ করেছে বোল্ডস্কাই।

ডায়াবেটিস নিজে একটা রোগ, কিন্তু সে আরও অনেক রোগ ডেকে আনতে পারে। যেহেতু রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় ডায়াবেটিস হলে, তাই একে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে হার্ট, চোখ, নার্ভসহ নানা অঙ্গ। বেশিরভাগ ডায়াবেটিস রোগী পায়ের সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ডায়াবেটিক ফুট’ বলে। এর ফলে পায়ে ব্যথা, পায়ের পাতা ভারি হয়ে যাওয়া, পা ফেলতে সমস্যা, পায়ের পাতায় নানারকম চর্মরোগ, পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফেটে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তৈরি হতে পারে ক্ষত, যা সারতে দীর্ঘদিন সময় লাগতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে পায়ের এই সমস্যা দেখা দেয়ার কারণ হলো পায়ের প্রতি অযত্ন। পায়ের আলাদা যত্ন করার দিকে নজর থাকে না আমাদের। এদিকে যেকোনো সংক্রমণের সূত্রপাত হতে পারে পায়ের পাতা থেকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য, বিশেষ করে সিগারেট এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন ভালো করে পায়ের পাতা পর্যবেক্ষণ করুন। কোথাও কোনও ক্ষত বা ইনফেকশন দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডায়াবেটিস রোগী হলে, যখনই চিকিৎসকের কাছে চেকআপের জন্য যাবেন তখন অবশ্যই পায়ের পরীক্ষা করান।

পা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মাইল্ড সোপ দিয়ে প্রতিদিন ভালো করে পায়ের পাতা পরিষ্কার করুন। বাড়ি ফিরে গরম জলে বাথ সল্ট দিয়ে কিছুক্ষণ পা চুবিয়ে রাখুন।

ভেজা অবস্থায় জুতা ও মোজা পরবেন না। মোজা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুতি বা উলের মোজা পরুন। সস্তার জুতা না পরে একটু ভালো, নরম ও আরামদায়ক জুতা পরবেন। খুব চাপা জুতা ব্যবহার করবেন না।

নখ কাটার সময় খেয়াল রাখুন যাতে নখের কোণাগুলো বেশি কাটা না হয়। রাতে শুতে যাওয়ার আগে ভালো করে পা ধুয়ে ফুট ম্যাসাজ করুন, এতে রক্ত চলাচল ভালো হবে। পায়ের শুক্ষ চামড়া নিজে নিজে হাত দিয়ে টানবেন না। ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে পায়ে অলিভ অয়েল, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরে ও বাইরে খালি পায়ে হাঁটবেন না। যাদের পায়ে ক্ষত বা ঘা আছে তাদের নিয়মিত ড্রেসিং করা উচিৎ, অন্যথায় ইনফেকশন বেড়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *