সীমিত পরিসরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ আশপাশের পর্যটন স্পটসমূহ খোলা হলেও বিধি-নিষেধেই থাকছে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছেনা দ্বীপটি। যেভাবে আছে সেভাবেই থাকতে হবে প্রবাল দ্বীপের বাসিন্দাদের।

মঙ্গলবার (০১ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।

তিনি জানান, দ্বীপে এ পর্যন্ত কোনো করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। তাছাড়া নভেম্বর থেকেই পর্যটন মৌসুম। তাই তার আগে আপাততঃ সেন্টমার্টিন খুলে দেয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে না।

এদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে দিনে মাত্র ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবে এবং রাতে সেখানে পর্যটক অবস্থান করতে পারবেন না, সম্প্রতি সরকারের এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)।

পর্যটন ভিত্তিক সংগঠনটির সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিতকরণ বা রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলে পর্যটন শিল্পে নিয়োজিত সাত থেকে আটটি জাহাজ, ২০০ থেকে ৩০০ বাস-মিনিবাস, ১০০ মাইক্রোবাস, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ জন টুরিস্ট গাইড এবং দ্বীপের ১২০টি হোটেল-কটেজ ও ৭০টি রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হওয়ার আশংকা আছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার জন্য স্টেক হোল্ডারদের বক্তব্য নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও জাবেদ আহম্মেদের সাথে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

ইতোমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার জন্য সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার হোটেল মালিক, রেস্টুরেন্ট মালিক, দোকান মালিক, বোট মালিক, বাস মালিক, জাহাজ মালিক সমিতিসহ পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত খোলাসা করেছে পর্যটনভিত্তিক সংগঠন টুয়াক।

সেখানে তারা জানিয়েছিল, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাওয়া বন্ধ হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩ লাখ মানুষ জীবিকা হারাবেন। হুমকির সম্মুখীন হবে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে টুয়াকের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবনাসমূহ হল- পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রতিদিন ২৫০০ পর্যটক দিবাকালীন এবং ১৫০০ পর্যটক রাত্রিযাপন ভ্রমণ অনুমতি প্রদান করলে পর্যটন এবং পরিবেশ উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।

ইতোমধ্যে টুয়াক সেন্টমার্টিনকে প্লাস্টিক ফ্রি করার জন্য প্লাস্টিক ফ্রি ইকো ট্যুরিজম কক্সবাজার নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে; যা বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রতিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে বসবাসকারী স্থানীয় প্রায় ১৫ হাজার জনগোষ্ঠীকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দ্বীপ হতে অন্যত্র পুনর্বাসন এবং পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসী ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা গ্রহণ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, পর্যটক পরিবহন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল ব্যবসায়ী ও জাহাজ ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রে পতিত হচ্ছে। হোটেলসমূহে এসটিপি প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *