মাঠ থেকে মিলেছে সম্মান, মাঠের পারফরম্যান্সেই ধরা দিয়েছে তারকাখ্যাতি। বিদায় কেন মাঠ থেকে নয়? এই প্রশ্ন তুলে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক বলছেন, মাঠ থেকেই বিদায় নেওয়া উচিত ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির।

ধোনির ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার শেষ হয়েছে গত শনিবার। ভারতীয় কিংবদন্তি ইনস্টাগ্রামে ছোট্ট করে জানিয়েছেন অবসরের খবর।

২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধোনির অবসরেও ছিল না চটকদার কিছু। অস্ট্রেলিয়া সফরে বক্সিং ডে টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনেও কোনো ইঙ্গিত দেননি ধোনি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শেষের ৪৫ মিনিট পর ভারতীয় বোর্ডের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, সাদা পোশাকে আর খেলবেন না ধোনি।

এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চূড়ান্ত অবসরও আড়াল থেকেই নিলেন ধোনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইনজামাম বললেন, তুমুল জনপ্রিয় একজনের বিদায় এমন হওয়া উচিত নয়।

“ বিশ্বজুড়ে ধোনি কোটি ভক্ত আছে যারা তাকে মাঠে দেখতে চায়। আমার মতে, এই মাপের একজন ক্রিকেটারের ঘরে বসে অবসর নেওয়া ঠিক হয়নি। মাঠ থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল তার।”

২০১৩ সালে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন আরেক ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার। তাকে বলা একটি কথা ধোনির প্রসঙ্গে তুলে ধরলেন ইনজামাম।

“ এই একই কথা আমি একবার বলেছিলাম শচিন টেন্ডুলকারকে। এত এত ভক্ত-অনুসারী যাদের আছে, তাদের মাঠ থেকেই বিদায় নেওয়া উচিত। দিনশেষে, এই মাঠ থেকেই তো এত সম্মান, এই তারকাখ্যাতি মিলেছে।”

“ আমার মতে, ধোনিও এরকম করলে আমিসহ তার ভক্তরা খুশি হতো। আমি তাকে ভারতের সেরা অধিনায়ক বলেই মনে করি।”

অবসরের ধরন পছন্দ না হলেও ধোনিকে যে দারুণ পছন্দ করেন, সেটি অবশ্য মন খুলেই জানিয়েছেন ইনজামাম। ব্যাটসম্যান হিসেবে ধোনি বিশেষত্ব ও অধিনায়ক হিসেবে ধোনির অন্তদৃষ্টি ও দূরদর্শিতা তুলে ধরলেন পাকিস্তানের সফলতম আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যান।

“সে জানত কিভাবে ম্যাচ শেষ করতে হয়। ঘনঘন সেঞ্চুরি সে করেনি, কিন্তু এমন ভাবে ইনিংস গড়ে তুলত যে দল শেষ পর্যন্ত জিতে যেত। একাই ম্যাচ জেতাতে পারত সে। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে রান তাড়ায় চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল, এটিই বলে দেয় কতটা আত্মবিশ্বাস ছিল তার।”

“ ধোনি এমন বুদ্ধিদীপ্ত একজন ক্রিকেটার ছিল, সে জানত কিভাবে তরুণদের গড়ে তুলতে হয়। তার গড়ে তোলা সেরা দুই ক্রিকেটার সুরেশ রায়না ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। খেলাটা এত গভীরভাবে বুঝত, যে ক্রিকেটারদের সে বেছে নিত, তাদের গ্রেট হিসেবে গড়ে তুলত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *