আর কখনও দেশের হয়ে মাঠে নামা হবে না-কঠিন এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন মহেন্দ্র সং ধোনি ও সুরেশ রায়না। চোখে জল নিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন একে অপরকে, জানালেন রায়না। অবশ্য কষ্টের হলেও, জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরুটা পরে উদযাপনও করেছিলেন বলে জানালেন সাবেক বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

ধোনির ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার শেষ হয় গত শনিবার। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে পৌঁছে ভারতীয় কিংবদন্তি ইনস্টাগ্রামে ছোট্ট করে জানান অবসরের সিদ্ধান্ত। এর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন রায়নাও।

দেশের সফলতম অধিনায়কের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই জানতেন রায়না। তাই নিজেও প্রস্তুত ছিলেন মানসিকভাবে। সেই দিনের আবেগঘন মুহূর্ত ভারতের সাবেক এই মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান তুলে ধরলেন সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণের কাছে।

“আমি জানতাম, ধোনি চেন্নাইয়ে পৌঁছে অবসরের ঘোষণা দেবে, তাই আমিও প্রস্তুত ছিলাম। চার্টার্ড বিমানে ১৪ অগাস্ট আমি, পিযুষ চাওলা, দীপক চাহার ও কারান শর্মা রাঁচি পৌঁছে সেখান থেকে মাহি ভাই ও মনু সিংকে তুলে নেই।”

“অবসর ঘোষণার পর আমরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরেছিলাম এবং অনেক কেঁদেছিলাম। এরপর আমি, পিযুষ, আম্বাতি রায়ডু, কেদার যাদব ও কারান একসঙ্গে বসে আমাদের ক্যারিয়ার ও সম্পর্ক নিয়ে কথা বলি। আমরা সে রাতে পার্টিও করি।”

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি ধোনি ও রায়না। করোনাভাইরাসের প্রকোপে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পিছিয়ে যাওয়ায় চলতে থাকা ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে। অবশেষে সব জল্পনার ইতি টানলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

রায়না-ধোনির আন্তর্জাতিক পথচলার শুরু প্রায় একসঙ্গে, ছয় মাসের ব্যবধানে। ২০০৪ সালের শেষ দিকে ভারত দলে অভিষেক হয় ধোনির, রায়নায় ২০০৫ সালের মাঝামাঝি। দীর্ঘদিন ভারতের হয়ে একসঙ্গে খেলে গেছেন দুইজন। তাই বিদায়ও একসঙ্গেই নিতে চেয়েছিলেন তারা। রায়না জানালেন, সবকিছুই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত।

“শনিবার (১৫ অগাস্ট) অবসর নেব, আমরা মনস্থির করেই রেখেছিলাম। ধোনির জার্সি নম্বর ৭ আর আমার ৩, দুইটা নম্বর যুক্ত করলে হয় ৭৩। আর ১৫ অগাস্ট ভারত স্বাধীনতার ৭৩ বছর পূর্ণ করেছে। তাই এর চেয়ে ভালো দিন আর হতে পারে না।”

“ধোনি ২৩ ডিসেম্বর (২০০৪ সাল) বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ক্যারিয়ার শুরু করেছিল। আমার অভিষেক হয়েছিল ৩০ জুলাই (২০০৫ সাল) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আমরা দুই জনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রায় একসঙ্গে শুরু করি, সিএসকেতেও একসঙ্গে। তাই এখন আমরা একসঙ্গে বিদায় নিলাম এবং আইপিএল একসঙ্গে খেলে যাব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *