কক্সবাজারের টেকনাফে একটি খেলার মাঠে বন বিভাগের চারা রোপণ নিয়ে অভিযোগ ওঠেছে।আজ শনিবার উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকায় অবস্থিত নেচার পার্ক সংলগ্ন মাঠে বন বিভাগ চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ২০-২৫ বছর আগে এলাকার লোকজন জঙ্গল পরিষ্কার করে খেলার মাঠটি তৈরি করেন। সেই থেকে ওই মাঠে এলাকার ছেলেরা নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।সম্প্রীতি উক্ত খেলার মাঠে বন বিভাগ কতৃক চারা রোপনের সিদ্ধান্তের খবর পেয়ে ওই এলাকার স্থানীয় শিশু-কিশোর ও বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।তাই গাছের চারা রোপণ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

মোহাম্মদ উল্লাহ নামে স্থানীয় এক খেলোয়ার বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই এই মাঠে ফুটবল খেলতাম।আমাদের এলাকার একটি মাত্র খেলার মাঠ এটি।খেলাধুলার জন্য এটি ছাড়া আর কোন মাঠ নেই।এলাকার খোলা জায়গা বলতে সব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দখলে।এলাকার ছেলেরা প্রতিদিন এই মাঠে খেলাধুলা করে।খেলার মাঠে চারা রোপণ করা হলে এলাকার ছেলেদের খেলাধুলার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, টেকনাফ একটি ইয়াবা ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা।ইয়াবার সর্বনাশা থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।দমদমিয়া ৯ নং ওয়ার্ডের ছেলেদের খেলাধুলার জন্য একটি মাত্র মাঠ এটি।এই মাঠটি ছাড়া খেলাধুলার জন্য আর কোন মাঠ নেই।জমিটি বন বিভাগের হলেও ওই মাঠটি দখল করে চারা রোপণ করার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকতা আশিক মাহমুদ বলেন, দমদমিয়া এলাকার নেচার পার্ক সংলগ্ন খোলা জায়গাটি বন বিভাগের।এটি কারও ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠ নই।এই মাঠে খেলাধুলার জন্য সরকারী কোন অনুমতিও নেই।সম্প্রতি এই মাঠে রাতের আঁধারে নানা অপকর্মের অভিযোগও ওঠেছে।তাই উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে এই মাঠে চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আজকে অল্পকিছু চারাগাছ রোপন করা হয়েছে।যদি এলাকার ছেলেরা খেলতে চাই তাহলে সরকারের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে হবে।অনুমতি ব্যতীত খেলাধুলা করা যাবে না।বর্তমানে মাঠটি গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, নেচার পার্ক সংলগ্ন দমদমিয়া মাঠে খেলাধুলার কারণে স্থানীয় এলাকার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন বন কর্মকতা।হতদরিদ্র খেলোয়াড়রা চাঁদা দিতে না পারায় মাঠে চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।এমন সিদ্ধান্ত টেকনাফের ক্রিয়া সমাজের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।দমদমিয়া এলাকার ছেলেদের খেলাধুলার জন্য এটি একমাত্র খেলার মাঠ।গত ২৫ বছর থেকে এই মাঠে ছেলেরা খেলাধুলা করছে।তবে, এই বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।পাশপাশি খেলার মাঠ রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *