আসলে বোর্ডের ইচ্ছেটা কি? একবার বলা হচ্ছে, মাঠ তৈরি। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সব জিমনেশিয়ামও প্রস্তুত। ক্রিকেটাররা চাইলে হোম অব ক্রিকেটে (মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম) অনুশীলন করতে পারবে।

আবার পরক্ষণে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, শুধু ফিজিক্যাল ট্রেনিং আর জিমওয়ার্ক করা ছাড়া কোনো রকম ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করা যাবে না।

শুধু রানিং, স্ট্রেচিং, ওয়ার্মআপ আর জিম করতে চাইলে হোম অব ক্রিকেটে আসতে পারবেন ক্রিকেটাররা এবং সেটা ১৮ জুলাই শনিবার থেকেই সম্ভব। জাগো নিউজসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়া মিডিয়া হাউজে সে খবর ফলাও করে প্রচারও হয়েছে।

কিন্তু শেষ খবর, আগামী পরশু শনিবার থেকে শেরে বাংলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যে ব্যক্তিগত অনুশীলনের কথা শোনা যাচ্ছে, তা নাও হতে পারে।

আজ রাতে বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত শনিবার থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যে নিজ নিজ উদ্যোগে ফিজিক্যাল ট্রেনিং করার কথা ছিল, তা অনিশ্চিত। মানে সেখানে শেষ পর্যন্ত কেউ অংশ নিতে নাও পারেন।

সেই অংশ না নেয়ার মিছিলে হয়ত মুশফিকুর রহীমও থাকতে পারেন। সবার জানা ক্রিকেট যার ধ্যান-জ্ঞান এবং সবচেয়ে বেশি যিনি অনুশীলনের জন্য মুখিয়ে আছেন, সেই মুশফিকুর রহীমও নাকি নিশ্চিত নন।

মুশফিকের খুব কাছের সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মুশফিক গত সপ্তাহের শুরুতেই বেরাইদের ফরটিস ফুটবল একাডেমি মাঠে প্রথমে রানিং ও পরে হালকা ব্যাটিং প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন এবং আশায় ছিলেন, কবে শেরে বাংলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্র্যাকটিস করার সুযোগ মিলবে।

কিন্তু যখন শুনলেন যে, হোম অব ক্রিকেটে আপাততঃ কোনোরকম স্কিল ট্রেনিং করা যাবে না। সে সুযোগ থাকবে না। সেটা হলেও পরে। ঈদের ছুটির পরে এবং তাও করোনার প্রকোপ কমলে।

এ খবর শোনার পর মুশফিকের ভেতরে প্রতিক্রিয়া হয়েছে যে, আমিতো বেরাইদে রানিং করছিই। তাহলে শুধু রানিংয়ের জন্য আর শেরে বাংলা গিয়ে দরকার কি? মুশফিকুর রহীম এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

একবার ভাবছেন যাবেন হোম অব ক্রিকেটে। আরেকবার মনে করছেন, শুধু রানিংয়ের জন্য বেরাইদই বেটার অপশন। শেষ পর্যন্ত যাবেন কি যাবেন না? তা নিয়ে মিস্টার ডিপেন্ডবল নিজে সংশয়ে ভুগলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর রাজধানী ঢাকায় অবস্থানরত সিনিয়র ও প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের বড় অংশই আপাততঃ শেরে বাংলায় ফিজিক্যাল ট্রেনিং করতে যাবেন না।

টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক আজ রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, অন্যরা কেউ যাবেন কি না জানি না। তবে আমি যাব না। আমি আপাততঃ ঘরেই ফিজিক্যাল ট্রেনিং করছি এবং এখন মাঠে না গিয়ে ঘরেই জিম ও ফিজিক্যাল ট্রেনিং চালিয়ে যেতে চাই।’

এদিকে বোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, তারাও করোনার এ অবস্থায় ক্রিকেটাররা মাঠে যান- তা চান না। তারাও এটাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে মুখে নাও করছেন না।

বিসিবির দুই শীর্ষ পরিচালক ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান ও মিডিয়া কমিটি প্রধান জালাল ইউনুসের মুখে সেই পুরনো কথা, ‘আমরা (বিসিবি) এখন কোন প্র্যাকটিসে উৎসাহিত করছি না। সেটা ঈদের পরে আগস্টে করোনার প্রকোপ কমলে করার কথাই তো বলা হয়েছে। তবে কেউ যদি করতেই চায় তাহলে বাঁধা দেয়া হবে না।’

তার মানে বোর্ডও ভিতরে ভিতরে উৎসাহী নয়। তাই হয়ত ক্রিকেটাররাও তা বুঝে স্টেডিয়ামে না গিয়ে ঘরেই প্র্যাকটিস করাকে শ্রেয় ভাবছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *