নিচের বিষয়গুলো সাইক্লোন আম্পান সম্পর্কে জানা জরুরি। বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, জনাব নইম গওহার ওয়ারা (ডিজাস্টার ফোরাম), আব্দুল লতিফ খান (শরনার্থী ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ) এবং রেজাউল করিম চৌধুরী (নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট)। বক্তব্যের শ্রুতিলিখন করেছেন সালমা সাবিহা খুশি (কোস্ট ট্রাস্ট)।

সাইক্লোন আম্পান সম্পর্কে জরুরি বিষয়:
বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন আম্পান। বর্তমান গতিপথ দেখে মনে হচ্ছে, সুন্দরবন দিয়ে যাবে এই সাইক্লোন। বাংলাদেশের সুন্দরবন ও ভারতের সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করলেও এতে সৃষ্ট বৃষ্টি ও বাতাসের প্রভাব আমাদের প্রায় সবগুলো উপকূলকেই আক্রান্ত করবে।

উৎপত্তিস্থলে এর গতিবেগ ঘন্টায় ২২০ কি.মি.।তবে এটি আরো শক্তি সঞ্চয়ও করতে পারে আবার গতি হ্রাস ও হতে পারে। এখন এটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের পূর্ব দক্ষিণ দিকে আছে। এভাবে আগাতে থাকলে এটি ‘আনোয়ারা’এর দিকে মানে ১৯৯১ এর সাইক্লোনের দিকে যেতে পারে।

আম্পানে জোয়ার স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৩ মিটার উঁচু হতে পারে। এখন আবার আমাবস্য। আমাবস্যায় জোয়ার এমনিতেই স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। এখন এই আম্পান ও আমাবস্যার জোয়ার একসাথে হলে বিপদের কারণ আছে। এখন পর্যন্ত আম্পান আমাবস্যার এক দিন আগে আঘাত হানার সম্ভাবনা আছে। তবে গতি বর্তমানে কমার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাতে আমাবস্যার জোয়ারের সাথে ধাক্কা না লাগার সম্ভাবনা আছে। তাতে জোয়ারের সময় হলে উচ্চতা অনেক বেশি হতে পারে এবং যেটা কিনা প্রায় ২ তলার সমান হতে পারে।

এই মূহুর্তে কক্সবাজার নিরাপদ হলেও আগামীকাল ২০মে ২০২০ দুপুরের আগ পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয় যে এই আম্পান কোথায় আঘাত হানতে পারে।

একদিকে COVID-19 এবং অন্যদিকে আমাদের সীমিত সাইক্লোন শেলটার, এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

সেক্ষত্রে যা করণীয়,

১. অনেক সময় ধরে মানুষকে সাইক্লোন শেলটারে গাদাগাদি করে না রেখে, সাইক্লোন শুরুর ৮-১০ ঘন্টা আগে মানুষকে শেলটারগুলোতে আনতে হবে।

২. বিভিন্ন স্কুল, কলেজ সহ সরকারি-বেসরকারি অফিসের ভবনগুলো খুলে দিতে হবে। প্রয়োজনে মসজিদের ছাদ ব্যবহার করতে হবে।

৩. সবার জন্য মাস্ক না হলেও রুমালের ব্যবস্থা করতে হবে এবং হাত ধোয়ার জন্য সাবান পানির ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন- আধা লিটারের বোতলে পানি ও ডিটারজেন্ট গুলিয়ে বোতলের তলা ফুটা করে প্রত্যেককে দিতে হবে।

৪. খাবার দেয়া উচিত হবে না। কেননা ৫-৬ ঘন্টা না খেয়ে থাকার চেয়ে, খাবার সঠিক ভাবে ম্যানেজ করা সম্ভব না হলে মানুষের সাথে মানুষ বেশি মিশে বিপদ বাড়তে পারে।

৫. বাতাসের যে গতিবেগ তাতে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি গাছপালা নষ্ট হতে পারে। একটু সজাগ থাকতে হবে যাতে তাদের ঘরগুলো পড়ে গেলে দ্রুত আমরা সেগুলো মেরামত করতে পারি।

৬. সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ অঞ্চলে এখনো ধান কাটা শেষ হয়নি। হাতে এখনো যতটুকু সময় আছে তা কাজে লাগিয়ে পাকা ধান কেটে ফেলতে হবে।

৭. ওয়াটারবুটকে খুবই সচেতন রাখতে হবে যাতে জলোচ্ছ্বাসের পরপরই পানি বেরিয়ে যেতে পারে। পানি বের করতে প্রোয়জনে সুইচ গেট ভাঙতে হতে পারে। সেই প্রস্তুতিও রাখতে হবে। না হলে ১৯৯১ এর মতো আমাদের ধান, ক্ষেতেই অনেক নষ্ট হবে।

৮.টেকনাফে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই সেখানকার যে যে স্থান ভূমিধ্বসের ঝুঁকিতে রয়েছে সেসব স্থানকে নিরাপদ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. মাছের ঘের গুলো এখনি নেট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে সাইক্লোন শেষে পানি বের হয়ে যাওয়ার সময় মাছ বের হয়ে না যেতে পারে।

১০. সিপিপি (CPP-Cyclone Preparedness Programme) থেকে যে তথ্য পাচ্ছি সেটাই যেন আমাদের সবার তথ্য হয়। বিভিন্ন রকম তথ্যে আমরা বিভ্রান্ত হবো না।

COVID-19 এবং সাইক্লোন আম্পান এই দুই সমস্যা আমরা একসাথে মোকাবেলা করছি। তাই আমাদের সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে সুনিয়ন্ত্রিত থাকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *