এম.আর, মাহমুদঃ
মানুষ জন্ম গ্রহণ করার সময় ক্রমিক নাম্বার থাকলেও মারা যাওয়ার সময় ক্রমিক নাম্বার অনুসরণ হয়না। কারণ, জন্ম ও মৃত্যুর ফায়সালা একমাত্র আল্লাহরই হাতে। সারা বিশ্বের মানুষ করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো করোনা ভাইরাসের কাছে অসহায় কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা করোনা ভাইরাসকে। কিন্তু তারপরও করোনা ভাইরাস বিনাসে রতি মহারতিদের দিনরাত ব্যাপক কর্মজজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো পুরোপুরি সফলতা না আসলেও হয়তো একদিন সফল হবে। করোনার কারণে কার্য্যত সারা বিশ্ব অচল। শুধুমাত্র করোনার কারণে বাংলাদের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ নয় বরং সারা বিশ্ববাসিই ক্ষতিগ্রস্থ। রোগ ছড়ানো থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে লকডাউন জারি করেছে। কিন্তু যতই লকডাউনের ঢাক ঢোল পিঠানো হোকনা কেন এ জাতি মানতে নারাজ। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী সকলেই মাঠে চষে বেড়াচ্ছে লকডাউন কার্যকর করার জন্য। আবার বেশিরভাগ মানুষ লকডাউন না মেনে হাঠে বাজারে দোকানে আড্ডা দিয়ে যাচ্ছে। সমস্যাতো নেই, কারণ সরকারি ভাবে কিছুনা কিছু ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপলক্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ কথিত মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের নামে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ঈদের আগে। এই টাকা পেয়ে করোনাকে পরোয়া না করে দিনরাত সমানে বাজারে বাজার করার জন্য চষে বেড়াচ্ছে। সামাজিক দুরত্ব মানছেইনা। সমস্যাটা হচ্ছে- সরকার করোনায় আবদ্ধ লোকজনের জন্য কম ত্রাণ বিতরণ করেনি। এক্ষেত্রে কেউ পচ্ছে কেউ পচ্ছেনা। কথায় আছে মেজবানে সবার কপালে সমান মাংস জোটেনা। প্রবীণ এক জনপ্রতিনিধি দুঃখ করে বলেছেন দুর্যোগ কালে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা যেটুকু আলোচিত হয় তার তিনগুণ সমালোচিত হয়। আবার সব জনপ্রতিনিধি ধোয়া তুলসি পাতা নয়। যেমন করোনা চালাকালে বেসুমার চাল, ডাল, তেল চোর অনেকেই ধরা পড়েছে। কপাল মন্দদের ভাগ্যে জুটেছে কারাগার, ভাগ্যবানরা মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আবার তারা বেশিরভাগই শাসকদলের নেতা কর্মী। এসব কথিত জনপ্রতিনিধি গড ফাদারদের বক্তব্য হচ্ছে দলের জনপ্রতিনিধিদের বাড়ীতে মেজবান চলছে। তারা কি কখনো আলো ভর্ত্তা দিয়ে ভাত খাবে! সেই সুত্রে ত্রান চোর জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কোন মন্তব্য করা যথার্থ হবে বলে মনে করিনা। প্রবীণদের মতে তেতুল যতই পুরনো হোক কখনো মিষ্টি হয়না। এই দুর্যোগ কালে কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি নিজের কর্মকান্ডের জন্য নানা ভাবে লাঞ্চিত হলেও আবার কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি সুনাম অর্জন করে। ত্রাণ চুরি নিয়ে সব জনপ্রতিনিধিকে এক পাল্লায় মাপা কোন ভাবেই ঠিক হবেনা। প্রতিদিন করোনা রোগির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে সাথে মরছেও। কিন্তু লকডাউন নামক শব্দটি কেউ আমলে নিচ্ছেনা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক লকডাউনকে শতভাগ কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও পরদিন থেকে কোন যেই লাউ সেই কদুতেই রয়ে গেছে। সবশেষে করোনা ও লকডাউনের অবস্থা দেখে পুরনো একটি গল্প মনে পড়েছে। গল্পটি হচ্ছে “রাজা রাতে ঘুমাতে গিয়ে স্বপ্নে দেখলেন জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ সনিবার বৃষ্টি হবে, সেই বৃষ্টির পানি যারা পান করবে তারা পাগল হয়ে যাবে। পরদিন রাজা প্রজাদের কথা চিন্তা করে সারাদেশে জানিয়ে দিলেন ওই দিনের বৃষ্টির পানি কেউ যেন পান না করে। সেজন্য আগে ভাগেই পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দিলেন, কিন্তু রাজ পরিবার ছাড়া কোন প্রজাই রাজার এ ঘোষণা শুনলেননা। তারা বৃষ্টির পানি সরাবন তহুরার মত পান করেছেন। আর সাথে সাথে পাগল হয়ে গেছে। সব প্রজা রাজ বাড়ীতে গিয়ে উলোট পালোট কথা বলতে শুরু করল। রাজা বলল তোরা সব পাগল হয়ে গেছিস। পাগল প্রজারা উল্টো রাজাকে বলে বসল- রাজ পরিবারের সবাই পাগল হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত রাজ পরিবারে সকল সদস্যও কর্মকর্তা কর্মচারীরা সংখ্যাগরিষ্ট প্রজার পদ অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি সেই দিকেই যাচ্ছে।

এম.আর, মাহমুদ, সাংবাদিক
তারিখ: ১৯.০৫.২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *