তাবলিগ জামাতের সমাবেশে যোগ দেয়া বড় একটা অংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে সেটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ বলে আখ্যায়িত করেছে ভারতের প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ।

করোনাভাইরাসকে ধর্মীয় সহিংসতায় ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণিত কাজ বলে মন্তব্য করে শনিবার দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কাসেম নোমানী একটি বিবৃতি দেন।

দেওবন্দ মাদ্রাসার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, নিজামুদ্দিন মারকাজকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে জলঘোলা পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, এটি অবশ্যই নিন্দনীয়। বৈশ্বিক এই সঙ্কটকালেও কিছু নীতি ভ্রষ্ট মানুষ করোনাভাইরাসকে ধর্মীয় সহিংসতায় ব্যবহার করতে চাচ্ছেন; আমরা জোরালো ভাষায় এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

ভারতীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আশা করছি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করবে এবং যারা করোনাভাইরাসকে ধর্মীয় বিরোধ ও সংঘাতে ব্যবহার করতে চাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘বিশেষত দেশ এবং দেশের বাইরের যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি আইনি ব্যবস্থার আগে মানবতার পরিচয় দেয়া হবে বলে আমরা আশা করছি’।

বিবৃতিতে তাবলিগ জামাতের যে সদস্যরা ১ মার্চের পরে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে অবস্থান করেছিল, তাদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

নিজামুদ্দিনের ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়া বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে দেওবন্দের প্রিন্সিপাল বলেন, আমরা এ জাতীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, এ জাতীয় বিদ্বেষ যে মিডিয়াগুলো ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *