সশস্ত্র ড্রোন বা আনম্যান্ড কমব্যাট এয়ার ভেহিকল (ইউসিএভি) তৈরিতে তুরস্ক আর চীন বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে রয়েছে। এই দুই দেশই ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের ঘনিষ্ট মিত্র। পাকিস্তানও তার এই দুই মিত্রের সহায়তায় বেশ কিছুদিন ধরেই ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। যা তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে।

ড্রোন প্রযুক্তির পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করে তুরস্ক যে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তার সুফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ড্রোন ব্যবহার করে তারা রাশিয়ার সহায়তাপুষ্ট সিরিয়ার সিরিয়ার বাহিনীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। এগুলো দিয়ে তারা সিরিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার আকাশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘পান্তসির মিসাইল সিস্টেম’ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করে দিয়েছে।

ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে চলতি মাসের শুরুর দিকে স্বীকার করেছেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে নতুন করে কাজ করছে, যাতে বাহিনী একই সাথে চীন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটো ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে পারে। আসন্ন হুমকিকে বিবেচনায় রেখে, ভারতীয় সেনাবাহিনী অন্তত ১০০টি মনুষ্যবাহী লোইটার মিউনিশান সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেগুলো শত্রু টার্গেটকে নিশ্চিহ্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সে ক্ষেত্রে ফায়ারিং রেঞ্জের মধ্যে তাদেরকে যেতে হবে না।

ভারতের পদাতিক ডিভিশান যে নথি প্রকাশ করেছে, সেখানে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘লোইটার মিউনিশান সিস্টেমকে ভারতের সমস্ত ভৌগলিক পরিবেশ ও জলবায়ুগত পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পারফর্মেন্স দেখাতে হবে। এটাতে অবশ্যই সেনা ও হালকা টার্গেটকে ধ্বংস করার উপযোগী ওয়্যারহেড থাকতে হবে।’

লোইটারিং মিউনিশান বা কামিকাজে ড্রোন এমন একটা অস্ত্র সিস্টেম যেটা টার্গেটের উপরে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে পারে, টার্গেটকে অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করতে পারে এবং চিহ্নিত টার্গেট লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। লোইটারিং মিউনিশানের মাধ্যমে শত্রু টার্গেটের উপর আরও নিখুঁতভাবে আঘাত হানা যায়। যদি কোন হামলা মিশন আগাম শেষ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে ইউএভিগুলো লোইটারিং মুডে ফিরে যেতে পারে এবং নতুন করে হামলা করতে পারে।

এদিকে, তুরস্ক আর চীনের সাম্প্রতিক ড্রোন সাফল্য পাকিস্তানকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। ইউরেশিয়া টাইমসকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, এই ড্রোনগুলোর সাফল্যের কারণ হলো এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনগুলোর চেয়ে হালকা এবং এটা যুদ্ধ অঞ্চলের আকাশে ঘন্টার পর ঘন্টা স্বল্প গতিতে ঘুরতে পারে। এ সময় তারা তাদের টার্গেটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এবং তাদের অপারেটরের উপর নির্ভর করে থাকে। তাছাড়া এই ড্রোন তৈরিতে জঙ্গি বিমান বা মার্কিন ড্রোনগুলোর চেয়ে খরচ কম। এসআইপিআরআইয়ের রেকর্ডে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, চীন ১৩টি দেশের কাছে ২০০৮-২০১৮ সালের মধ্যে ১৬৩টি ইউসিএভি বিক্রি করেছে, যেখানে একই সময়ে মার্কিন এমকিউ-৯ সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১৫টি।

তুরস্কের দুটো ড্রোন সিস্টেম বায়রাকতার-টিবি এবং আনকা-এস সিরিয়াতে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধেও ব্যাপক হারে বায়রাকতার ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছিল। সেখানেও তুরস্ক তাদের ড্রোন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েছিল। এখনই তুরস্ক আর পাকিস্তানের মধ্যে কোন চুক্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, বায়রাকতার পাকিস্তানের জন্য একটা ইতিবাচক অস্ত্র হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোনের চার ভাগের এক ভাগ ব্যায়ে ড্রোন বানিয়ে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে চীন। আরব আরিরাত পূর্ব লিবিয়ার আল খাদিম বিমান ঘাঁটিতে চীনের তৈরি উইং লুং-টু ড্রোন মোতায়েন করেছে। ত্রিপোলি ভিত্তিক জেনারেল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অংশের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহী সেনারা লড়াই করছে, তাদেরকে সহায়তা দেয়ার জন্যই এই ড্রোনগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: এসএএম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *