একদিকে সিএএ’র বিরুদ্ধে শাহিন বাগের আন্দোলনকারীদের বোঝাচ্ছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা দুই মধ্যস্থতাকারী, প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামচন্দ্রন। অন্যদিকে, মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে রাজপথের পাশে মুসলমান শিল্পীদের সাথে খোশগল্পে মশগুল মোদি। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এই সফর এতটাই আকস্মিক ছিল, খোদ সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভিও জানতেন না। খবর পেয়ে তিনিও ছুটে যান।

গত এক সপ্তাহ ধরে ইন্ডিয়া গেটের সামনে চলছে ‘হুনর হাট’। হাটের উদ্যোক্তা ভারতের সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়। সেখানে পসরা সাজিয়েছিলেন বডোদরার শিল্পী শাহিনা। রঙিন পাথর সাজিয়ে শিল্পকর্মে তিনি গুজরাতে বেশ নাম করেছেন। আগাম খবর না-দিয়েই মোদি সেখানে হাজির! হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন তিনি। মোদীর তার তৈরি ভারতের মানচিত্র দেখে বলেন, ‘এতে তো গুজরাতে গান্ধীজি গাঁথা আছে!’ শাহিনা চটপট উত্তর দেন, ‘ঐক্যের মূর্তিও গাঁথা আছে।’

এর পর মোদি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন, তার পরে যান মেলা প্রাঙ্গণের বাবুর্চিখানার দিকে। সেখানে ‘শুদ্ধ দেশি ঘিয়ে তৈরি বিহারি ব্যঞ্জন’-এর স্টলে গিয়ে তিনি ‘লিট্টি-চোখা’ নামের এক ধরণের খাবার খান। নিজের পকেট থেকে ১২০ রুপিও দেন। দুই ভাঁড় চা-ও নেন ৪০ রুপি দিয়ে। একটি নিজের জন্য, অন্যটি নকভির জন্য।

মেলায় মোদি ছিলেন প্রায় ৫০ মিনিট। সেখান থেকে ফিরে ছবি, ভিডিও টুইটারে শেয়ার করেন। ওই মানচিত্র দেখার ভিডিওতে লেখেন, ‘এক মানচিত্রে ভারতের সংস্কৃতি ও বৈচিত্র দেখুন।’ বিশেষ ভাবে সক্ষম এক মহিলার সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও শেয়ার করেন। মহিলাকে বলতে শোনা যায়

কিভাবে তিনি মোদি সরকারের দৌলতে ফুটপাত থেকে নিজের বাড়ি কিনেছেন। আর বিহারি খাবার নিয়ে লেখেন, ‘ভারতের এত রং, বৈচিত্র। বিকেলটা ভাল কাটল। হাতের কাজ, কার্পেট, বস্ত্রের সেরা সামগ্রী। আর হ্যাঁ, অবশ্যই সুস্বাদু খাবার। আমিও সুস্বাদু লিট্টি-চোখা, এক কাপ চা খেলাম। গোটা দেশ থেকে এত মানুষ। চনমনে পরিবেশ। অবশ্যই আসবেন।’

নকভি জানালেন, হুনর হাটে তিন লাখ শিল্পী রোজগারের পথ পেয়েছেন। সরকার বিনামূল্যে মঞ্চ দেয়। ব্যবসা তাদের। বিজেপি প্রচার শুরু করল, ‘এ থেকে শাহিন বাগ কিছু শিখছে কি?’ নকভি টুইটারে ছবি দিলেন, মোদির কাটআউট ঘিরে মুসলিম বাচ্চারা। ইঙ্গিত স্পষ্ট। একদিকে, ভারতে সিএএ, এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে শাহিন বাগ। তাতে সমর্থণ দিচ্ছেন দিল্লির বাসিন্দারা। বিশেষ করে মুসলমানরা। অন্যদিকে, বিহারের আসন্ন নির্বাচন। মোদির মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ খুব ভালোই জানেন এক ঢিলে অনেক পাখি কিভাবে মারতে হয়। সূত্র: এবিপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *