লিওনেল মেসি-ছবি: সংগৃহীত
লিওনেল মেসি, জেরার্ড পিকের মতো সিনিয়র তারকাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করার বিস্ফোরক খবর নিয়ে উত্তাল বার্সেলোনা। আর এই অভিযোগ উঠেছে খোদ বার্সা প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া বার্তমেউসহ ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে বিষয়টা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ক্লাবের প্রতি নিজের ভালোবাসা আগের মতোই আছে বলে জানালেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

কিছুদিন আগে স্প্যানিশ রেডিও নেটওয়ার্ক ‘কাদেনা এসইআর’ সর্বপ্রথম বিস্ফোরক রিপোর্টটি করে। রিপোর্টে দাবি করা হয়, মেসি-পিকেদের মত তারকাদের ইমেজ খারাপ করার জন্য একটি পিআর (পাবলিক রিলেশন্স) কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয় বার্সার পরিচালনা পরিষদ। শুধু তাই না, তাদের আক্রমণের লক্ষ্য থেকে মুক্তি পাননি ভিক্তর ফন্ত, পেপ গার্দিওলা এবং জাভি হার্নান্দেজের মতো সাবেকরাও।

মূলত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে মেসিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোই ছিল ওই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। যদিও পরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বার্সা। তাদের দাবি, সামাজিক যোগযোগের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও ভুয়া এবং কুৎসা রটনাকারী কোন সামাজিক মাধ্যমের একাউন্টের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

কিন্তু বার্সার দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে আরও একটি রিপোর্টে প্রকাশ করে স্প্যানিশ রেডিওটি। যেখানে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ হাজির করে দেখায় যে ওই ভুয়া একাউন্টগুলোর পেছনে বার্সার নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান জড়িত। ওই একাউন্টগুলো বর্তমান ও সাবেক বার্সা তারকাদের ইমেজের ক্ষতি করার পাশাপাশি বর্তমান ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও বোর্ড পরিচালকদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রচারণা চালিয়ে গেছে।

যখন সব সত্য প্রকাশ হয়ে পড়ল, এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে পিআর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করে নেন বার্সা প্রেসিডেন্ট। যদিও সাবেক ও বর্তমান তারকাদের ইমেজ নষ্ট করার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি। কিন্তু তাতে কি আর সমস্যার সমাধান হয়?

চাপের মুখে শেষে মেসিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাও করেন বার্তমেউ। কিন্তু সেখানে নতুন কিছু বলতে পারেননি তিনি। বরং জনসম্মুখে যে কথা বলেছেন সেই কথাই বারংবার বলে গেছেন। এমনটা খোদ মেসিই জানিয়েছেন।

কাতালান সংবাদ মাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘এটা (ক্লাব কর্তৃক কুৎসা রটানো) আমাকে বেশ অবাক করেছে কারণ আমি এখানে ছিলাম না এবং আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে আমি কিছুটা জানতে পারলাম। প্রেসিডেন্ট (বার্তমেউ) সংবাদ সম্মেলনে বলা কথাগুলোই আমাদের বলেছেন। তারা (ক্লাব কর্মকর্তারা) জানিয়েছেন তারা প্রমাণ দেখাবেন। বিষয়টা সত্য নাকি মিথ্যা সেটা জানতে অপেক্ষায় থাকতে হবে।’

বার্সেলোনায় নিজের পরিবার নিয়ে সুখেই আছেন মেসি
তবে এত ঝামেলা সত্ত্বেও বার্সায় সুখেই আছেন মেসি। তবে নিজ দেশ আর্জেন্টিনার রোসারিওকে ভীষণ মিস করেন বলেও জানালেন তিনি। ক্যাম্প ন্যুয়ে কেমন কাটছে তার জীবন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বার্সেলোনায় খুব ভালো আছি। আমি বার্সেলোনাকে ভালোবাসি, যদিও আমি রোসারিওকে ভীষণ মিস করি। তবে এটাই আমার ঘর, আমি এখানে আর্জেন্টিনার চেয়েও বেশি সময় কাটিয়েছি।’

বার্সায় নিজের পরিবার নিয়ে কতটা সুখে আছেন তার বর্ণনা পাওয়া যায় মেসির কথাতেই, ‘আমি বার্সাকে এবং আমি যেখানে থাকি সেই কাস্তেদেফেলসকে ভালোবাসি। এখানে আমি আমার পছন্দমতো জীবন কাটাই।’

অবসরের পুরো সময়টা পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে আমার পেশা আমাকে সন্তানদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। এটা আমাকে অনুশীলন এবং ক্ষুধার্ত শরীরে আমার জীবনসঙ্গিনী আন্তোনেলার সঙ্গে খেতে যেতে পারি এবং শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি।’

‘আমরা একসঙ্গে ডিনার করি এবং মরার মতো ঘুমাই। কারণ আমাদের তিন সন্তানসহ (সারাদিনের দৌড়ঝাঁপে) আমরা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ি এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ি। মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার আমার সন্তানরা ফুটবল খেলতে (বার্সার) ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হাজির হয়। এরপর আমরা বাসায় ফিরে একসঙ্গে ডিনার করি। এইতো আমাদের অতি সাধারণ জীবন,’ শেষ করেন মেসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *