বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবলে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্যদিকে গত আসরের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে যায় ‘এ’ গ্রুপের আরেক দল শ্রীলঙ্কা। ফলে সেমিফানালে যেতে হলে লঙ্কানদের বিপক্ষে জিততেই হতো জেমি ডে’র শিষ্যদের।

এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে মূল একাদশে বাংলাদেশের কোচ চারটি পরিবর্তন আনেন। চোটের কারণে ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে তাতেও বড় জয় আটকায়নি লাল-সবুজদের। মতির মিয়ার জোড়া গোলে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ঘরের সমর্থকদের আন্দন্দের উপলক্ষ্য এনে দিতেও সময় লাগেনি স্বাগতিকদের।

২৭ মিনিটে বাংলাদেশের থ্রু-ইন থেকে পাওয়া পাস পেনান্টি-বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে পারেননি। সেই সুযোগে বল পেয়ে পেনান্টি-বক্সের ডান দিকে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো কিক নেন মতিন মিয়া। বল চলে যায় কাঙ্খিত ঠিকানায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় লার-সবুজের প্রতিনিধিরা।

লঙ্কান খেলোয়াড়দের কাটিয়ে গোল করার পথে মতিন মিয়া: ছবি-শোয়েব মিথুন কিছুক্ষণ পরেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ২১ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের বাইরে বল পেয়ে একক প্রষ্টোয় এগিয়ে নিয়ে যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে সামনে এগিয়ে আসা লঙ্কান গোলরক্ষক রুয়ান অরুনাসিরিকে পরাস্ত করেত পারেননি তিনি। ইব্রাহিমের শট ফিরিয়ে দেন অরুনাসিরি।

প্রথমার্ধের বাকিটা সময় ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে শ্রীলঙ্কা। তবে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জেমি ডে’র দল।

বিরতির পর শুরুতেই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলো শ্রীলঙ্কা। রাজীক আহমেদের জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের সোহেল রানা মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যান। পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

তবে ব্যবধান বাড়াতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ৬৪ মিনিটে মাঝমাঠে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মতিন মিয়া বল পেয়ে ওঠে যান আক্রমণে। লঙ্কান গোলরক্ষক তাকে বাধা দিতে দ্রুত পেনাল্টি বক্স সীমানার কাছাকাছি চলে আসেন। সেই সুযোগে অরুনাসিরিকে বোকা বানিয়ে বল বের করে সহজেই গোল করেন মতিন।

মতিন মিয়ার গোল উদযাপন: ছবি-শোয়েব মিথুন ৭৬ মিনিটে বাংলাদেশের সাদ উদ্দিন গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল করা হয়। ৮৩ মিনিটে স্বাগতিকরা তৃতীয় গোলের দেখা পায়। পেনাল্টি বক্সের বাম দিক থেকে রাকিব হাসানের কাছ থেকে বল পেয়ে দলের তৃতীয় গোল করেন ইব্রাহিম।

ম্যাচের শেষ মিনিটে রেফারি বাংলাদেশের অধিনায়ক তপু বর্মনকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তপু। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনাল ওঠে জেমি ডের শিষ্যরা।

আগামী ২৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে বুরুন্ডির মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *