আওলাদ হোসেন সাগর

তিনমাস পর ফেইসবুকে এসে খুব জানতে ইচ্ছে করছে কেমন আছ তুমি? সাদামাটা উত্তর হল!” Cash based macro economy” খুব ভাল।

অবকাঠামোর দিক থেকে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই মহেশখালী উন্নয়নের বিশ্বরোডে। সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন গর্ববোধ করি তখনই আমার চিন্তা হয় মহেশখালির উন্নয়ন নিয়ে কখন গর্ব করবো? নাকি তার আগেই গর্ভপাত হবে? কিছু মানুষের কথা শুনলে মনে হয় কলিজা কেটে ফ্রাই খাওয়াচ্ছে, একটু পর বুঝতে পারি কলিজা ফ্রাইটা আমার নিজের কলিজা ফ্রাই ছিল। জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে মহেশখালী কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার কিছু নাই। আমরা তো সব দিয়ে জাতীয় উন্নয়নে অংশীদার হলাম। তারপর? কি পেতে যাচ্ছি আমরা?

২০১৪-২০১৫ সালে কয়েকজন পরিবেশ বিজ্ঞানী, ইউনিভার্সিটি শিক্ষক, স্থানীয় জনগণ মিলে কয়েকটা আলোচনা সভা, সেমিনার, কয়েকটা পোস্টারও করেছিল। ওই সময়ের ঘটনা আজকে না বলাই ভালো। তারপর চুপ থাকলাম।

এখন বাস্তবতা হল আমরা অনেক অনেক ক্যাশ টাকা হাতে পাচ্ছি (যদিও আমরা তেমন সম্পদশালী নয়বলে প্রাপ্তিটা ও কম ) BOOM ইকোনমি মনে হচ্ছে সব লেভেলে। আমি একজন অর্থনীতির ছাত্র্র হিসেবে বলতে পারি এমন কোন ইকোনমিক থিওরি নাই যেখানে “নিজের জমি বিক্রয় করে বড় লোক হয়” এবং মনে রাখবেন জমি বিক্রয় টা হল Last resort before bankcraft. আমার একটা ধারণা আমরা অনেকেই খুব দ্রুত দেউলিয়া হতে পারি। আমি চাই তা যেন না হয়। Finance বলে সব থেকে less productive assets হলো cash টাকা, যা এখন মহেশখালীর আকাশে বাতাসে। এই টাকা আপনাকে বাধ্য করবে ফোর্স কংসাম্পশনে। psychologically(মনঃস্তাত্ত্বিকভাবে) প্রতিবার অনেক টাকা খরচ করলেও আপনার মনে হবে সামান্য খরচ করছি। আমার ঘর টাইলস করাটা হতে পারে অযাচিত চাহিদা, কিন্তু তবুও করব, বিল্ডিং না বাঁধলেও চলবে, তবুও বাঁধতে হবে কারণ পার্শ্ববর্তী অন্য একজন বিল্ডিং করেছে তাই… এভাবে চলতে চলতে একসময় রাজাদের রাজকোষও খালি হয়ে যাবে, আমরা তখন কি করবো? অনেকেই বলবে তাজমহলের মত চা বিক্রি করবো। দুঃখিত আমরা তাও পারবোনা কিছু টেকনিকাল কারণে।

@রাজনীতির চলছাতুরী@
যে দেশের জনগণ যেমন তাদের রাজনীতিবিদরাও তেমনই হবে। অলমোস্ট সবাই ইনক্রিমেন্টাল লিডারশিপে বিশ্বাস করে। দরকার কি শুধু শুধু charismatic leader হওয়ার, risk নেওয়ার? একটা কথা মনে পড়ছে যখন জমি অধিগ্রহণ করার জন্য দাম নির্ধারণ করা হলো তা মোটেও ন্যায্য ছিল না, কারণ এখানে অনেক subjective বিষয় incorporate করা হয় নাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আইনগত ভাবে তা পাওয়ার জন্য একজন রাজনীতিবিদ ও পাওয়া যায় নাই। কারণ হয়তো অনেকেই বলবেন টাকা পয়সার দুর্নীতি ,,,,, আমি জানিনা কিন্তু একটা কারণ হতে পারে “ভয় “. যদি আমার প্রতি উপর লেভেল বিরক্ত হয় someting like that …

যাক, আমরা আদার বেপারি জাহাজের খবর নিয়ে লাভ নাই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বেশি সম্মান করি রাজনীতিবিদদের। কারণ তারাই মূলত দেশ চালায় এবং Closely জনগণের সাথে থাকে। তারা যা পারে আমরা কোনো দিনও করতে পারবো না। কিন্তু যাদের এখনো অনেক কিছু দেয়ার আছে এবং সামনে অনেক বড় পলিটিকাল ক্যারিয়ার আছে তারাও আজ টাকার কাছে, প্রজেক্ট- পার্সেন্টেজে busy…

অনেকেই হয়তো হতাশ কিন্তু আমি হতাশ নই। আপনাদের কে মনে করে দিতে চাই একজন শুভাকাঙ্খী হিসাবে। আল্লাহ অনেককে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করে, দয়া করে তার সর্বোত্তম ব্যবহার করেন আমরা আপনাদের হেল্প করবো। হঠাৎ মনে পড়ল বিএনপি-জামাত আমলে আমাদের গ্রামে একটা কেসেট ভাঙা নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো একজন খুব ভাল ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। বাস্তবতা হলো প্রতিবাদ তো দূরের কথা, বিচারক হিসাবে একজন আওয়ামিলীগ করা লোকও এগিয়ে আসেনাই। আর এখন সবাই আওয়ামীলীগ।

অনেকদিন থেকে বলে আসতেছি একটা কলেজ এবং কয়েকটা ভাল স্কুল প্রতিষ্টার জন্য, রাজনৈতিক বক্তিতা অনেক দিলেন সময় কিন্তু শেষ হয়ে যাবে দয়া করে তার আগে বাস্তবায়ণের চেষ্টা করুন। আমাদের কোন সমস্যা নাই প্রয়োজনে আপনার বাবার নামে করুন বা শেখ পরিবারের কারো নাম করুন.. আমাদের জাস্ট ভাল প্রতিষ্ঠান দরকার। কি লাভ যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরও এমন কিছু করে যেতে না পারেন যাতে পরবর্তী প্রজন্ম বলতে পারে এটা উনি করেছিলেন। শুধু মাত্র কাবিখা, টিউবয়েল বা সরকারি কিছু অনুদান কর্মীদের মধ্যে বন্টনের মাধ্যমে শুধু সাময়িক শান্তি পাবেন পরে আপসোস করবেন।

জানতে ইচ্ছা করে কি অবস্থা ” মহেশখালী শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন “এর। কবে এটা বাস্তবায়িত হবে ? আমি জানি এসবের কিছুই লাগবেনা আমাদের মত অবিবেচক ( সবাই না) এবং তেলবাজ যুব সমাজ থাকলে। সারাদিন ফেইসবুক এ অমুক ভাই – তমুক ভাই এবং সবাই মিলে নিজেকে জাহির করা। ….মাঝে মাঝে মনে হয় দুনিয়ার সব ভাল খারাপ measure করার একমাত্র ফ্লাটফর্ম Facebook…
প্লিজ এখন আর অতীত নিয়ে আপসোস না করে, অন্য আরেকদিন লিখব আমাদের মাদক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশ গত সমস্যা সমধানের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে খুব ব্যক্তি পর্যায়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।”

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেদার‌ল্যান্ডে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।।

Comments are closed.