‘এনডিল্লা কেন্ হাস্সবাজার!’

19

আজ (১৯ জুন) বাসা থেকে বের হয়ে টমটম যোগে অফিসের উদ্দেশ্যে আসছিলাম। আমাদের ওই টমটমে আগে থেকেই মুখ বাধা এক বয়স্ক নারী যাত্রী ছিলো (বয়স আনুমানিক সত্তোরোর্ধ)। তার সাথে ছিলো একজন পুরুষ। খুব সম্ভত তার ছেলে হবে। আমাদের বহনকারী টমটমটি কক্সবাজার শহরের পিটি স্কুল বাজারের পশ্চিমে সৃষ্ট গর্ত অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায় উল্টে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়েছে আমাদের! টমটমের এই উল্টো যাওয়া নিয়ে মারাত্মক ভয় পেয়ে যায় ওই বৃদ্ধা। তার মুখ থেকে অস্ফুটে বের হলো ‘এনডিল্লা কেন্ হাস্সবাজার!’। তার এই কথায় মনে হলো তিনি কক্সবাজার আর কোনো দিন আসেনি। আসলেও বহু বছর আগে।

টমটম আসতে আসতে শহরের বাজারঘাটায় আসলে আৎতে উঠেন ওই বৃদ্ধা। কারণ রাতের বৃষ্টিতে সড়কের বাজারঘাটার আবু সেন্টারের পশ্চিমের বিরাট অংশ পানিতে নিমজ্জিত। এই পানি ভেঙে চলাচলও করছে যানবাহন। তবুও এই পানি দেখে বড় বেশি ভয় পেয়ে যান তিনি। তিনি জেদ ধরেন আমাদের বহনকারী গাড়িটি যেন ওই পানিতে না নামে। এই নিয়ে চালক ও তার ছেলেকে বার বার বারণ করছে। আমরা সবাই তাকে অভয় দিচ্ছি। তবুও তিনি নাছোঁড়বান্দা! তার মতে তিনি এই পানি মাড়িয়ে যাবেন না। শেষ পর্যন্ত সবাই অভয় দিয়ে তাকে শান্ত করি। ততক্ষণে তার শরীরে এক ধরণের ভীতিকর আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শেষে আমাদের বহনকারী গাড়িটি ওই পানির স্থান পার হয়ে গেলে তিনি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। তার চোখে-মুখে বিপদ কাটিয়ে উঠার চিহ্ন! এসময় তিনি আবারো বললেন- ‘এনডিল্লা কেন্ হাস্সবাজার!’

তিনি প্রশ্ন রেখে আরো বলেন,‘ হাস্সবাজার এনডিল্লা নিকি। টঅন (শহর) অইলে কি অইব, হাস্সবাজারতো বেশি বিশ্রি। আঁরার গ্রামতো বউত বালা (ভালো) বউত সুন্দর!

ওই বৃদ্ধা ও তার সাথের লোকটি পেট্রোল পাম্প এসে নেমে যায়। ততক্ষণে বুঝতে পেরেছি, তারা এসেছেন হাসপাতালে। তবে তারা কোথা থেকে এসেছেন তা জানা হয়নি।