“স্বামী-স্ত্রীর অকৃত্রিম মেলবন্ধন”

87

শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন

অধরা, তোমার মেসেজ এর টোন আর সূর্যের মলিন ছোঁয়ায় ঘুম ভেঙ্গেছিলো সকালবেলা। আর একটু ঘুমানোর চেষ্টা করেও পারিনি ঘুমাতে! অস্থিরতা আমায় তাড়া করতে শুরু করছিলো। কেন তোমার মেসেজ এর উত্তর দিচ্ছিনা। তাই হলো! হেরে গেলাম নিজের কাছে। বুকে জমাট বাঁধা শত অভিমান যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। অবাক হয়েছি! তাছাড়া, এত দ্রুত স্বাভাবিক হবো কল্পনাও করেনি। আর তুমিও বেশ সুযোগ বুঝে আমার রাগ ভাঙ্গাতে তৎপর হয়ে উঠো। আচ্ছা, তুমি আমার সাথে এত ঢং কেমনে করতে পারো? আসলে, তুমি তো তুমিই!
তোমার অপরূপ মায়ামাখা দুষ্টুমিগুলো মাঝেমাঝে আমার কাজের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। তবে চাপের মাঝে এক ফসলা মলিন হাসি ফুটাই দু’ঠোঁটের কোণায়। যেটা আমার কাজের গতি বাড়াতে বেশ ভূমিকা রাখে। তোমার চিমটি কাটা, ভ্রু কুঁচকে একটু রাগ, হাস্য উজ্জ্বল তীক্ষ্ণ চাহনি, অজান্তেই কপালে চুম্বন এঁকে দেওয়া, কাছে টেনে তোমার বাহুতে মাথা রেখে ঘুম পাড়ানোর গান শুনা সবকিছু কেমন জানি বেশ অদ্ভুত লাগে। তোমার মতো আসলে কেউ হয়না। সত্যিই তুমি অতুলনীয়। সারাদিন অফিস করা মাঝেমাঝে বিরক্তিকর হয়ে উঠে। তোমার একটু স্পর্শ পেতে অস্থির হয়ে উঠি।
“মন চাই ছুটে আসি তোমারি তরে,
হৃদ ভরে চেয়ে থাকি তোমারি পানে।
কিন্তু, বাস্তবতা আর পিছু ছাড়েনা। ঠিকই, অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে হয়। তবে আমি নিশ্চিত, আমায় ছাড়া চার দেওয়ালের বদ্ধ খাঁচায় বেশ অস্থির হয়ে উঠো। আর সাজগোজ করে চেয়ে থাকো, কখন আমি বাসায় ফিরবো। আর তুমি সেবা করতে তৎপর হয়ে উঠবে। আসলে, আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি। তোমার মতো একটা জীবনসঙ্গী পাওয়া বর্তমান সময়ে বেশ দুর্লভ। কারণ, আধুনিকতা সবকিছু কে লুটে খেতে বসেছে। নেই কোন আদর-মায়া, নেই কোন যত্ন, নেই কোন স্বামীর প্রতি যথেষ্ট সম্মান-ভালোবাসা। স্বার্থ এবং আধুনিকতার লেলিহান সবকিছু কে দমিয়ে রেখেছে।

প্রতিনিয়ত আমি অবাক হয় । যখন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরি। আমার সেবায় তোমার অবিচল হওয়া। আমাকে অদ্ভুত করে তুলে। বাসার বেল দেওয়ার সাথে সাথে দৌড়ে এসে দরজা খোলা, সম্মানের সহিত পা ছোঁয়ে সালাম করা, ঘামের গন্ধ তবুও জড়িয়ে ধরে সাদা গোলাপি লিপিস্টিক এর চুমুক বসিয়ে দেওয়া কপালে! আরো কত কি…! এই সবকিছু হৃদয়ে নিখাদ ভালোবাসা সঞ্চার করে। শান্তির সু- বাতাস বয়ে নেয় প্রতিটা শিরা উপশিরায়। সন্ধা নামার আগে তোমার হাত ধরে নদীর পাড়ে হাটা, নিঃস্বার্থে সারাদিন আলো দিয়ে যাওয়া সূর্যাস্ত উপভোগ করা, মুক্তমনা হয়ে একইসাথে নীল আকাশের দিকে চেয়ে থাকা, এক ছাতার নিচে বসে সাগরের বিশালতা উপভোগ করা, তোমার কাঁধে মাথা রেখে “বুকের বাঁ পাশে” নাটক দেখা। মুহূর্তগুলোই জীবনের সেরা এক একটি অধ্যায়। বাসায় ফিরার সময় আমার ভাই-বোনদের জন্য চকলেট নিতে তুমি কখনো ভুল করোনা। এক কথায়, আমার চেয়ে বেশি তুমি তাদের যত্ন নাও। ডিনারের সময় সবাইকে ডেকে একসাথে বসে খাওয়া। দারুণ লাগে! সবকিছু আমার ডিশে তুলে দিয়ে হাসিমুখে বলো, “তুমি খাও! তুমিই তো এই পরিবারের মেরুদণ্ড। সুতরাং, তোমাকে শক্ত ও সবল হতে হবে! তারপর না হয় আমরা খাবো।” তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকে।
শুধু ভাবি, হারিয়ে যাবে না তো কখনো? মাঝপথে আমায় এতিম করবে না তো? মায়ের মৃত্যুর পর থেকে আমি কখনো নিজেকে এতিম ভাবিনি। তাছাড়া, তুমি আমার ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, মা-বাবার মুখে হাসি ধরে রাখতে, নিজেকে যতটা উজাড় করেছো! একটা ছেলের মন জয় করতে এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার আছে বলে মনে করিনা। তাইতো মায়ের মৃত্যুর সময় চোখ দু’টো আমার দিকে ছিলোনা! ছিলো তোমার দিকে! তোমার হাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলো মা! বলেছিলো তোমাকে, “আমার বাসার নক্ষত্র হয়ে বেচে থেকো তুমি আজীবন। ”
আজ সেই নক্ষত্রই (অধরা) আমাকে পথচলার আলো করে দিচ্ছ। সাহস জুগিয়ে দিচ্ছ। অনুপ্রেরণা জুগিয়ে দিচ্ছ সব কাজে। আমিও এগিয়ে চলছি রোদ্দুর। আর কি লাগে আমার? কিছুইনা! তুমিই তো সবকিছু। তবে, অনেক ছেলে আছে যারা তোমাদের এই ত্যাগ কে স্বীকার করেনা। তোমাদের ছোট ছোট চাওয়াগুলো কে পাত্তা দেয়না। তাদের জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে বিশ্বাস করো অধরা, সব ছেলে কিন্তু এমন নয়! আবার সব মেয়েও কিন্তু তোমার মতো না! বেচে থেকো তুমি অপরিমেয় কাল। সৃষ্টি করো আরো অনেক অধরা। মশাল হাতে আলো জ্বালাও পৃথিবীজুড়ে…

লেখক:- শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন, গোরকঘাটা, মহেশখালী, কক্সবাজার।