বিশ্ব কাঁপাতে আজ শুরু বিশ্বকাপ

13

লন্ডনকে বলা হয় ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর। সেখানেই ২০ বছর পর ফিরছে বিশ্বকাপ। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকাল সাড়ে ৩টায় ইংল্যান্ড-দক্ষিণ উদ্বোধনী ম্যাচে দিয়ে পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরের। তার আগের দিন জমকালো আয়োজনে ইংরেজদের ঐতিহাসিক স্থাপনা দ্য মলে উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বকাপের। ইংল্যান্ডে এনিয়ে তেমন কোনও মাতামাতি চোখে না পড়লেও ক্রিকেট জ্বরে যে বিশ্ব কাঁপতে যাচ্ছে সেটা না বললেও চলে।

দুই দশক পর ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ফিরলেও সেই অর্থে শহরে নেই কোনও প্রাণ। স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে নেই কোনও মাতামাতি। সব মাতামাতি যেন অতিথি দলের! হয়তো মাঠের খেলার অপেক্ষায় আছেন স্বাগতিক দর্শকরা! বৃহস্পতিবার মাঠে খেলা ফিরলেই গর্জন তুলবেন তারা। উন্মাদনা না থাকলেও উদ্ধোধনী ম্যাচের আগের দিন দারুণ এক অনুষ্ঠান উপহার দিয়েছে আয়োজকরা।

দ্য মল- ইংরেজদের গর্বের জায়গা। এই মলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বহু অনুষ্ঠান হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় উৎসব থেকে শুরু করে রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে বসার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান হয়েছিল এই মলেই। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয় এখানে। আইসিসিও ব্রিটিশদের গর্বের এই জায়গাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিয়েছে।

লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার শহরের ‘বাকিংহাম প্যালেস’ ব্রিটেনের রাজতন্ত্র ও রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক। এর কাছেই অবস্থান দ্য মলের। লন্ডনের আকাশে সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে সবার মনেই শঙ্কা জেগেছিল ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মতোই কি ভেস্তে যাবে এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান?

না। শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দ্য মলে হাজির ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। তিনি ছিলেন এই অনুষ্ঠানের প্রাণ। ইংল্যান্ডের এই সাবেক ক্রিকেটার দারুণ উপস্থাপনা করেছেন। সঙ্গী কৌতুক অভিনেতা প্যাডি ম্যাকগিনসে রঙ্গ-রসে লোক অট্টহাসিতে মেতে উঠেছিল। আকাশে উড়েছে বেলুন আর শান্তির পায়রা। কয়েকটি স্থানীয় ব্যান্ড হাজির ছিল এখানে। তারা গান গেয়ে বিনোদন দিয়েছেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে হলে যে উৎসবমুখর ব্যাপার থাকতো সেটায় কিছুটা ভাটাই পড়েছে। তারপরও ইংল্যান্ড উষ্ণতায় বরণ করে নিয়েছে বিশ্বকাপকে।

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন শেষে এবার মাঠের খেলা শুরু হচ্ছে। ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে তেমন মাতামাতি নেই। যতখানি আনন্দ খুঁজে পাওয়া গেলো সেইসব বাংলাদেশ কিংবা ভারতীয় সমর্থকদের চোখে-মুখেই। তাদের প্রত্যেকেরই আশা করছেন নিজেদের দল বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে! আর্সেনালে বাস করেন হবিগঞ্জের আবির হোসেন। বাংলাদেশকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত এই প্রবাসী বাংলাদেশি। আগামী ২ জুন ওভালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটি মাঠে বসে দেখবেন তিনি। তার বিশ্বাস বাংলাদেশ ফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখে।

ইংল্যান্ডের হোয়াইট চ্যাপেল, মূলত বাংলাদেশী প্রবাসীদের আবাস্থল। হুট করে কেউ এখানে আসলে ভড়কে যেতে পারেনে। হোয়াইট চ্যাপেলকে বাংলাদেশ ভেবে ভুলও করে ফেলতে পারেন যে কেউই! এখানকার বাংলাদেশিরা সবাই প্রস্তুত বিশ্বকাপকে বরণ করে নিতে। অবশ্য ভারতের প্রস্তুতির কাছে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকে নগণ্য বলাই যায়! পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলা হোক না কেন, ভারতীয় সমর্থকদের খুঁজে পাওয়া কোনও ঘটনাই না। মাঠে গর্জন তুলতে দারুন পটু ভারতীয় সমর্থকরা।

হিথ্রো বিমান বন্দর থেকে উঠেছিলেন ভারতীয় কয়েকজন। বাংলাদেশি কয়েকজনকে দেখে এগিয়ে এলেন! নিজ থেকেই বললেন, প্রস্তুতি ম্যাচে তোমরাতো পারলে না। এই বিশ্বকাপে আমরাই ফেভারিট, বুঝলে! তাদের মধ্যে প্রদীপ নামের একজন অবশ্য ইংল্যান্ডকে রাখলেন চ্যাম্পিয়নের তালিকায়। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সেমিফাইনাল খেলবে। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে ইংল্যান্ড কিংবা ভারত।’

এমন ছোট ছোট কিছু ঘটনাই বিশ্বকাপের উন্মাদনা জানান দিতে যথেষ্ট। আগামী দেড় মাস এখানেই ক্রিকেট দুনিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবে ১০টি দল। আর এর শুরুটা হচ্ছে টেমস নদীর পাড়ে ওভালে। এই বিশ্বকাপ স্বাগতিক ইংল্যান্ডের জন্য দারুণ এক সুযোগ। ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে সেমিফাইনাল খেলে ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ১৯৯২ সালের আসরে ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তাদের। বহু বছরের আক্ষেপটা এবার দূর করার সূবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে।