সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝড়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

20

কতবার এই শিরোপাটার একেবারে নিশ্বাঃস ফেলা দুরত্ব থেকে ফিরে আসতে হয়েছে বাংলাদেশকে! ছয়বার ত্রিদেশীয় কিংবা তারও বেশি দেশ নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। কিন্তু টেস্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার পর গত ১৯ বছরে সেই অধরা সাফল্যটা কোনোভাবেই ধরা দিচ্ছিল না।

অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সেই অধরা শিরোপাটায় প্রথমবারেরমত হাঁত ছোঁয়ানোর সুযোগ পেলো টাইগাররা। দ্বি-পাক্ষিক অনেক সিরিজ জিতলেও এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। ডাবলিনের মালাহাইডে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে গৌরবের শিখরে আরোহন করলো মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

২৪ ওভারে ২১০। পুরোপুরি টি-টোয়েন্টিতে পরিণত হয়েছিল মাচটি। শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ।

মূলতঃ দুই তরুণ ব্যাটসম্যানের ব্যাটের ঝড়েই অধরা শিরোপাটা ধরা দিল টাইগারদের হাতে। ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকারের পর মুশফিক, মিঠুনরা যখন একে একে ফিরে যাচ্ছিলেন আর বাংলাদেশ যখন জয় থেকে ধীরে ধীরে দুরে সরে যাচ্ছিল, তখন আশাহত হয়ে অনেকেই বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই মালাহাইডে ঝড়টা ফিরিয়ে আনলেন মোসাদ্দেক। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করলেন।

ক্যারিবীয় বোলারদের সম্পূর্ণ থোড়াই কেয়ার করলেন তিনি। ২২তম ওভারের ফ্যাবিয়েন এলেনের এক ওভার থেকেই মোসাদ্দেক নিলেন ২৫ রান। মূলতঃ ম্যাচটা ওই ওভারেই বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় চলে আসে। তিনটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি ওই ওভারে।

২৩তম ওভারের পঞ্চম বলে রেমন রেইফারকে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৫২ রানে মোসাদ্দেক এবং ২১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ করলো ২৪ ওভরে ১৫২ রান। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১০ রান। ক্রিকেটের অদ্ভূত বৃষ্টি আইন এটা। ডাকওয়ার্থ আর লুইস তৈরি করেছেন এই গাণিতিক হিসাব-নিকাশ।

এর আগে সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহীম।

মুশফিক-সৌম্যর ব্যাটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ওঠে। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে যান সৌম্য। লং অনে ধরা পড়েন সেলডন কটরেলের হাতে।

তিনি আউট হওয়ার পর মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুশফিকুর রহীম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে বৃষ্টির কারণে লম্বা সময় ধরে ম্যাচ বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়। কার্টেল ওভারে ম্যাচটি নির্ধারণ করা হয় ২৪ ওভারের। সেই নির্ধারিত ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৫২ রান।

কিন্তু বৃষ্টি আইন ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ালো ২১০ রান। ওভার সেই ২৪টিই।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামার পর ২০.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান তোলার পরই নামে বৃষ্টি। সে অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে খেলা বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টায় খেলা শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

বৃষ্টির আগে সাই হোপ ছিলেন ৫৬ বলে ৬৮ এবং সুনিল আমব্রিস ৬৫ বলে ব্যাট করছিলেন ৫৯ রানে। এরপর খেলা শুরু হলে ৬৪ বলে ৭৪ রান করে আউট হন সাই হোপ। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তার ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক সৈকত।

সুনিল আমব্রিস ৭৮ বলে থাকেন ৬৯ রানে অপরাজিত। ড্যারেন ব্র্যাভো অপরাজিত থাকেন ৩ বলে ৩ রান করে।