মেয়ে ভেবে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে হাজার টাকা উড়াতেন আফ্রিদি

48

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন খেলোয়াড় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। তাকে এক ঝলক দেখতে কত কিইনা করতেন ভক্ত-সমর্থকরা। অনেক নারীর কাছ থেকেই পেয়েছেন ভালোবাসার প্রস্তাব, একসঙ্গে জীবন গড়ার আহ্বান।

কিন্তু সেই আফ্রিদিই একবার পটে গিয়েছিলেন অপরিচিত এক নারীর কণ্ঠস্বর শুনে। যা তাকে বাধ্য করেছিল হাজার হাজার টাকা খরচ করতে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। সে নারীর কণ্ঠে বিমোহিত আফ্রিদি যখন দেখা করতে চাইলেন, তখন আবিষ্কার করলেন সে নারী তো আসলে নারী নয়! নারী ভেবে এতদিন ধরে পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

হাস্যকর শোনালেও এটিই সত্যি। যা আফ্রিদি নিজেই লিখেছেন তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘গেম চেঞ্জার’ এর এক অধ্যায়ে। পুরো বইটিতে নিজের খেলোয়াড়ি জীবন ও মাঠের বাইরের নানান ঘটনাবলী সম্পর্কে লিখেছেন আফ্রিদি। যারই অংশ হিসেবে নারী ভেবে পুরুষের কণ্ঠে বিমোহিত হওয়ার ঘটনাও লিখেছেন তিনি।

নিজের বইয়ে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘আমার বিয়ের আগের ঘটনা। একটা মেয়ে নিয়মিত আমাকে ফোন করতো। তার কণ্ঠস্বর ছিলো সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তখন মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে পৌঁছায়নি, যে কারণে ফোনকলের দাম ছিলো খুব চড়া। তবু আমি সেই মেয়ের কণ্ঠ শুনতে অনেক অনেক টাকা খরচ করতাম।’

তো কয়েক মাস ধরে কথা বলতে বলতে আফ্রিদির একসময় ভালো বন্ধুত্ব হয় সেই নারীর সঙ্গে। তাই ঠিক করেন এবার নিজ চোখে দেবেন এ কোকিল কণ্ঠের মালিককে। যেই ভাবা সেই কাজ, দেখা করার দিনক্ষণ ঠিক করে সময়মতো সেখানে হাজির হয়েই চক্ষু ছানাবড়া হয় আফ্রিদির, মন ভেঙে হয়ে যায় টুকরো টুকরো।

যে ঘটনার বর্ণনায় আফ্রিদি লিখেন, ‘তো আমরা দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। নির্দিষ্ট দিনে দরজায় বেল বাজার পর খুলে দেখাল একগুচ্ছ গোলাপ হাতে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি তখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা পাই যখন সে বললো আমার সঙ্গে মেয়ে সেজে মাসের পর মাস কথা মেয়েটা আসলে সে নিজেই।’