সমুুদ্র অর্থনীতি; কক্সবাজারে সোনালী সম্ভাবনার হাতছানি

51

আতিকুর রহমান মানিক:
বিশাল সমুদ্র উপকূল অধ্যুষিত কক্সবাজার জেলায় সোনালী সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে সমুদ্র অর্থনীতি তথা ব্লু মেরিন ইকোনমি। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলার সমুদ্র উপকূলকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়নাধীন সরকারী বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এ সম্ভাবনাকে আরো উজ্জল করেছে। কক্সবাজার জেলা ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন মিয়ানমার এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা নির্ধারিত হওয়ার পর পর্যটন জেলা কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিধি বেড়ে গেছে।
পর্যটন শিল্পের বিকাশ, মিষ্টিপান, লবণ-মৎস্য-শুঁটকি উৎপাদন, কয়লা বিদ্যুৎ ও প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরসহ অন্যান্য প্রকল্প কক্সবাজারকে অপার সম্ভাবনার সোনালী দিগন্তের পাণে হাতছানি দিচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সমুদ্রে (বাংলাদেশ অংশে) কী পরিমাণ মৎস্য সম্পদ, খনিজ সম্পদ, নৌ চলাচলসহ অন্যান্য কী ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এই সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে পারলে গোটা বাংলাদেশই বদলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার, মহেশখালী সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা সোনাদিয়া, মেরিন ড্রাইভ রোড, প্রবাল দ্বীপ সেন্টর্মাটিন ও সংলগ্ন ছেড়া দিয়াকে আর্কষণীয় করে তুলতে পারলে এ অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকের ঢল নামবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৬০ কোটি।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করেন এশিয়ার দেশগুলোতে। এদেরকে বাংলাদেশমূখী করতে পারলে পর্যটন অর্থনীতিতে বিপ্লব সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, ২০২০ সালের মধ্যে এ শিল্প হতে ২৯ কোটি ৭০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ১০.৫ ভাগ। দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ দিয়ে সারা দেশের লবণের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর শিল্প এলাকায় স্হাপিত ৪৩ টি লবন কারখানায় জেলায় উৎপাদিত লবন পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাত করে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার একর উপকূলীয় জমিতে প্রতি বছর নভেম্বর-মে মাস পর্যন্ত সমুদ্রের লোনা পানিকে আটকে সূর্যের তাপ ব্যবহার করে প্রতিবছর প্রায় ১৮ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদন করা হচ্ছে। সনাতনী চাষ ব্যবস্থা বদলে এ লবণ চাষে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষে প্রতি বছর মে-জুন উপরোক্ত উপজেলাগুলোর সমুদ্র উপকূলীয় একই জমিতে চাষ হচ্ছে বাগদা চিংড়ি ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ। এখানে উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ি ও মৎস্যপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। কক্সবাজার অঞ্চলে সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ার ভাটাকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিষেশজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই সমুদ্রের জোয়ারভাটা বা ঢেউকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভারত সমুদ্রের ঢেউকে ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভারতে মোট ২ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে সমুদ্রের ঢেউ এবং বাতাস ব্যবহার করে। আমাদের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সমুদ্র নানাভাবে সহায়তা করতে পারে। আর এর সূচনা হতে পারে কক্সবাজার থেকেই। অন্যদিকে, সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করতে প্রস্তাব দিয়েছে চীন। অবশ্য এরই মধ্যে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও হয়েছে। আগ্রহ রয়েছে জাপানেরও।

এছাড়া হাতে নেওয়া হয়েছে মহেশখালীর সোনাদিয়া ও মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ। মহেশখালীর মাতার বাড়ী ও চকরিয়ার পেকুয়ায় সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেল লাইন নির্মান প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্মিত হচ্ছে এলএনজি টার্মিনাল। এ ছাড়াও টেকনাফের সাবরাং ও জালিয়ারদ্বীপে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকাকে বেষ্টন করে নির্মিত হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ রোড। কক্সবাজার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিগত কয়েকবছরে বেড়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন। প্রতিবছর ইলিশ মৌসুমে গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত ইলিশের স্তুপ দেখা যায় কক্সবাজার মৎস্য অবতরনকেন্দ্রে। এর দ্বারা চাঙ্গা হচ্ছে উপকূলীয় অর্থনীতি। এসব মিলিয়ে কক্সবাজারে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে ব্লু ওসান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতি বা সংক্ষেপে সমুদ্র অর্থনীতি।

এই সমুদ্র অর্থনীতি কার্যকর করতে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), মালয়েশিয়া সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে মালয়েশিয়া থেকে একটি জাহাজ নির্মাণ করে আনা হয়েছে। এ জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ৩৮ মিটার এবং ওজন ১ হাজার ৫০০ টন।

বাংলাদেশের মালিকানাধীন বিশাল সমুদ্রসীমায় মৎস্য সম্পদ জরীপ করতে মালয়েশিয়া থেকে এই “আর ভি মীন সন্ধানী” নামে জাহাজটি আনা হয়েছে। এর সাহায্যে আমাদের সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কি পরিমাণ আছে তা জরিপ করা সম্ভব হবে। সমুদ্র অর্থনীতিকে কার্যকর ও ফলপ্রসু করতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

এদিকে, সমুদ্র অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন এবং কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে ১২০ কিলোমিটারের বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ি, সমুদ্র থেকে মাছ ধরে শুধু বিদেশে রফতানি করেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

এ ছাড়া মাছ থেকে খাবার, মাছের তেল দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, সস, চিটোসান তৈরি করা সম্ভব, যাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু সামদ্রিক মাছ ও শৈবাল রফতানী করে বাংলাদেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের সম পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে। এ মুহূর্তে দরকার সমুদ্রসম্পদের জরিপ করে বের করা সেখানে কী কী সম্পদ কত পরিমাণ আছে। এরপর এ সম্পদ কিভাবে কাজে লাগনো যাবে তা ঠিক করা। সমুদ্র বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের সমুদ্রে দুই ধরণের সম্পদ রয়েছে। একটি হচ্ছে প্রাণীজ সম্পদ অন্যটি হচ্ছে খনিজ সম্পদ। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমুদ্রে কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা এখনও জরিপ করা সম্ভব হয়নি।

সেভ আওয়ার সি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ম্যাগনেসিয়ামের ৫০ শতাংশই আসে সামুদ্রিক উৎস থেকে। সমুদ্র থেকে আহরিত ম্যাগনেসিয়াম লবণ এয়ারক্রাফট নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পটাশিয়াম লবণ সার ও নানা ধরনের রসায়ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। ওষুধ তৈরিতে ব্রোমিন এবং ওয়াল বোর্ড নির্মাণে জিপসাম ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইড খাবার লবণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সমুদ্র থেকে জীবনরক্ষাকারী নানা ধরনের ওষুধ পেতে পারি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার কম্পাউন্ড সমুদ্র থেকে পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা মনে করছেন, আগামী প্রজন্মের ওষুধের জোগান আসবে সমুদ্র থেকেই।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি-রফতানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২৬০০ বাণিজ্যিক জাহাজ চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আনা-নেয়া করে। ২০০৮ সালে বেসরকারি মালিকানায় বাংলাদেশি সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬টি। কিন্তু সমুদ্র পরিবহনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন তা ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আমদানি-রফতানিতে দেশীয় জাহাজের সংখ্যা বাড়লে এ খাতে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন খাতে ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রি করা জাহাজ ছিল চার হাজার। এখন যা নয় হাজারে পৌঁছেছে।

সেভ আওয়ার সি’র তথ্য অনুযায়ি, পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় দেশে গড়ে উঠেছে শিপিং এজেন্সি, ফ্রেইট-ফরোয়ার্ডিং, ব্যাংক-বীমা খাত। এ খাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেসরকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠা পানির মাছ এর বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন মাছ বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা আহরণ করে। যার সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ি, সারা দেশে মোট মাছের উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত কিছু জরিপ থেকে জানা যায়, নানা প্রজাতির মূল্যবান মাছ ছাড়াও সমুদ্রসীমায় নানা ধরনের প্রবাল, গুল্মজাতীয় প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির চিংড়ি, তিন প্রজাতির লবস্টার, ২০ প্রজাতির কাঁকড়া এবং ৩০০ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে ২০১৪ সালের ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৮টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমুদ্র সম্পদ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক কোর্স শুরু করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। অর্জিত সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা রক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জিএসবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি সমন্বয়ে পৃথক সভা করার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক অর্থনীতির উন্নয়নে সমুদ্র অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনোমি’ বাস্তবায়নে জাতীয়, উপ-আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ফলপ্রসূ নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ২০১৬ সালে রাজধানীতে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়ামের (আইওএনএস) এর অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “সমুদ্র সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ব্লু ইকোনমি’ কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র (টেরিটোরিয়াল সি), ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বিশাল এ সমুদ্র এলাকা ও সংলগ্ন উপকূল ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে ব্লু মেরিন ইকোনমি। সরকারও এ ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। উপরোক্ত সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উপকূলীয় জেলা হিসাবে কক্সবাজার হতে পারে ব্লু-মেরিন ইকোনমির অন্যতম কেন্দ্র।

আতিকুর রহমান মানিক
ফিশারীজ কনসালটেন্ট
চীফ রিপোর্টার
দৈনিক আমাদের কক্সবাজার ।