এড. সামশুল আলম কুতুবী
আগেকার দিনে মানুষকে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গা যাবার জন্য পদব্রজে, জলযানে মালপত্র পরিবহনের জন্য ভারবাহী পশু ও নদীর উপর নির্ভর করতে হত। মানুষের কাছে দুরত্ব ছিল বিশাল প্রতিবন্ধকতার মত। শুরু থেকে মানুষ এই দুরত্ব কে জয় করতে চাইলো। দুরত্বকে কিভাবে হাতের মূঠোই নিয়ে আসা যায় সে সব নিয়ে শুরু হয় চিন্তা। সর্বপ্রথম জার্মান দেশীয় কুনু নামের এক ভদ্র লোক ১টি কাঠের চাকা তৈরী করে গতির ভিত্তি রচনা করেন। পরে এক মার্কিন গবেষক চাকায় গুর্ণায়মান পদ্ধতি সংযোজন করে গতি সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে একজন জার্মান মি: ডেমলার চার চাকার গাড়ির রূপদেন এবং ঘুর্ণায়মান পদ্ধতির মাধ্যমে গাড়িতে দ্রুত গতিবেগ এনে দেন। ইহাতে উৎসাহিত হইয়া জার্মানীর মি: ডেমলার এবং অন্য একজন কার্লবেঞ্জ যৌথ উদ্যেগে একটি গাড়ির কারখানা স্থাপন করেন। মি: ডেমলারের কন্যা মার্সিডিজ এর নাম এবং কার্ল বেন্স সাহেবের নাম দিয়ে গড়ে তোলেন “মার্সিডিজ বেন্স কোম্পানী”। উক্ত কারখানায় মানুষ উন্নত প্রযোক্তির মাধ্যমে গাড়িকে আরামপ্রদ ও প্রযুক্তি উৎভাবন করে দ্রুতগতি প্রদান করেন। দেখাদেখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড নামের এক লোক ১৯০১ সালে ফোর্ড মোটর কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে গাড়ি তৈরি আরম্ভ করেন। গাড়ী তৈরীর মাধ্যমে দুরত্বের প্রতিবন্দকতার দেওয়াল মানুষ অতিক্রম করতে সক্ষম হন। এইভাবে গতিকে দ্রুত থেকে দ্রুততর করার জন্য মানুষ মোটর গাড়ী, রেল গাড়ী, এরোপ্লেইন এবং সর্বশেষ রকেট আবিস্কার করেন। এই ভাবে জলযান, আকাশযান ও স্থ’লযান ইত্যাদিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুততর গতির প্রবর্তন করেন। মানুষ মালামাল পরিবহনের জন্য পশুযানের স্থলে যন্ত্রচালিত যানের ব্যবহার আরম্ভ করে। প্রথমে কুনু নামের যে মানুষটি দুরত্ব অতিক্রমের অসিম সাহস নিয়ে গতি সৃষ্টির জন্য চাকা উদ্ভাবন করেছিলেন পরবর্তীতে তা গাড়ী যানের বাস্তব রূপ পরিগ্রহণ করে দুরত্ত্ব কে মানুষের সহজ গন্ডির মধ্যে নিয়ে এনেছে আজ মানবজাতী কুনু সাহেবের প্রথম আবিস্কৃত চাকার সুফল ভোগ করিতেছে। কুনু সাহেবের আবিস্কৃত একটি “চাকা” পরবর্তীতে গতির ভিত্তি রচনা করে। পৃথিবীর মানুষের সমস্ত আবিস্কার সাধারণভাবে প্রয়োজনের তাগিদে চিন্তার ফসল থেকে হয়েছে। এইভাবে দিনদিন গতি দ্রুত করার সাধনা চলিয়া আসিতেছে। কোথায় এর সমাপ্তি তা কল্পনা করা যায় না।
লেখক ঃ আজীবন সদস্য, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী।

Comments are closed.