কাশ্মিরে বাড়ি থেকে সেনাসদস্যকে তুলে নিয়ে গেল জঙ্গিরা

6

এবার নিজ বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই অপহরণের শিকার হলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরের বাদগাম জেলা থেকে জঙ্গিরা এক সেনাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। মোহাম্মদ ইয়াসিন ভাট নামের ওই ব্যক্তি ছুটিতে নিজের বাড়িতে এসে শুক্রবার সন্ধেবেলা অপহরণের শিকার হন। সেনাসূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, অপহৃত সেনার খোঁজে এরইমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এরআগেও কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে জঙ্গিরা।

ফাইল ছবি: ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যকাশ্মিরের পুনওয়ামাতে ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর ওপর জইশ-ই-মোহাম্মদের স্বঘোষিত আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে জঙ্গিবিরোধী দম অভিযানে আরও কঠোরতা আনে দিল্লি। তবে তাতে কোনও সফলতা আসেনি। বিশ্লেষকরা যদিও মনে করেন, সামরিক বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে ভারত কাশ্মির সংকটের সমাধান করতে পারবে না, তবু ক্রমশ সামরিক তৎপরতায় কঠোরতা এনেই বিবাদমান সমস্যার সমাধান করতে চাইছে দিল্লি। এই দমন অভিযানে হামলা বন্ধ হওয়ার বদলে বরং জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবারও জম্মুর একটি জনাকীর্ণ বাসস্ট্যান্ড আক্রান্ত হয়েছে বাসের নিচে পেতে রাখা জঙ্গি-বোমায়। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সেনাসদস্য অপহরণের কবলে পড়লেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, মোহাম্মদ ইয়াসিন ভাটের বাড়ি বাদগামের কাজিপোরা চাদুরাতে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে রাইফেলম্যান হিসাবে কর্মরত তিনি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এক মাসের ছুটিতে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার সন্ধেবেলা আচমকা বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। সেনা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওই জওয়ানের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু হয়েছে।

গত বছর জুন মাসে ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের এক রাইফেলম্যান ঔরঙ্গজেবকে পুলওয়ামা থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল জঙ্গিরা। গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছিল তাকে। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুই পুলিশকর্মী এবং একজন সিআরপিএফ জওয়ানকেও একইভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়; পুলওয়ামা হামলার মূল হোতা আদিল আহমেদ দার পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় ভারতকে সমর্থন করতেন। কদিন আগেও তিনি ছিলেন সুফি ধারার অনুসারী। আচমকা সেই মানুষটিই পরিচিত হয়ে উঠলেন জঙ্গি হিসেবে। গত বছর একইভাবে নিজের চিন্তাধারায় রূপান্তর এনেছিলেন কাশ্মিরি একজন অধ্যাপক। সমাজবিজ্ঞানের সেই মেধাবী শিক্ষার্থী একসময় কার্ল মার্ক্সের বস্তুবাদী তত্ত্বে শনাক্তকৃত ধর্মের অবস্থান নিয়ে আলোচনামুখর থাকলেও সামিল হয়েছিলেন সশস্ত্রপন্থী হিজবুল মুজাহিদীনের পতাকাতলে। গত বছর মে মাসে তিনি ‘শহীদ’ হন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যাপক মাত্রায় সামরিকায়ন, নিরাপত্তা তল্লাসির সূত্রে হওয়া নির্বিচার হয়রানি ও স্বশাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে।