১৫-১৭ ফেব্রুয়ারিই বিশ্ব ইজতেমা, তবে…

55

রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ তীরে পূর্বনির্ধারিত ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। পৃথক দিনক্ষণে নয়, তাবলীগ জামাতের দুটি গ্রুপ একসঙ্গেই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন। তবে কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি!

সচিবালয়ে রোববার দিনভর বৈঠক শেষে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর সঙ্গে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের (মাওলানা সাদ ও জুবায়েরপন্থী) মুরুব্বিদের বৈঠক শেষ হয়। প্রথম দফায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ৩টা এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।

প্রথম দফার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘দু’পক্ষের সম্মতিতে পূর্বনির্ধারিত ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ এখনও থাকায় দু’পক্ষের কিছু সংখ্যক মুরুব্বি দুপুরের পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফের বৈঠকে বসবেন।’

দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবেই। বিবাদমান দু’গ্রুপের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা পালনে রাজি হয়েছেন। তবে ইজতেমা চলাকালে তাবলীগের দেশি-বিদেশি মুরুব্বিদের মধ্যে কে, কখন বয়ান করবেন, আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন- ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দু’পক্ষই কিছু সুবিধা-অসুবিধা ও চাহিদার কথা জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আবারও বসে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করে একসঙ্গে ইজতেমা পালন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, স্যানিটারি, শৌচাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক প্রস্তুতির জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল, টঙ্গী পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি দু’পক্ষই একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা পালনে রাজি হয়েছেন বললেও তার কক্ষের বাইরের করিডোরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সাদপন্থী তাবলীগ নেতা মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা পৃথকভাবে বিশ্ব ইজতেমা পালন করতে সকালের বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’

‘সম্ভাব্য দিনক্ষণ হিসেবে ২৩, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি অথবা ১, ২ ও ৩ মার্চ এটি আয়োজনের সুযোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দু’পক্ষকেই একসঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের অনুরোধ জানান। সে হিসেবে আমরা কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরলে সেগুলো ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বসে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়। বিকেলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী দু’পক্ষের অপেক্ষাকৃত সিনিয়রদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।’

বৈঠকে সাদপন্থীদের মধ্যে সৈয়দ ওয়াসিফ ইসলাম, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা মোশাররফ, অধ্যাপক ইউনুস শিকদার এবং অপরপক্ষে ছিলেন মাওলানা জুবায়ের, মাওলানা ওমর ফারুক ও মাহফুজুল হক।

মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘একসঙ্গে ইজতেমা করার জন্য আমরা তিন দফা শর্ত দিয়েছি। দফাগুলো হলো- মাওলানা সাদ শরীয়তবিরোধী কথাবার্তা বলেছেন- এমন বক্তব্য যারা প্রকাশ করেছেন তাদের প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। মাওলানা জুবায়েরের নিজস্ব প্যাডে বিদেশি মেহমানদের দাওয়াত দেয়ার পরিবর্তে দু’পক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে দাওয়াতের চিঠি পৌঁছাতে হবে এবং সারাদেশের মসজিদে দু’পক্ষের সহাবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’

‘এছাড়া ইজতেমা চলাকালীন কে, কখন বয়ান ও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন- সে সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।’

বিকেলের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ের পর মাওলানা আশরাফ আলীকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নেতিবাচক কথা বলতে দেখে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা মিটিংয়ে এক রকম বলেন, এখন নেতিবাচক কথা বলছেন; যা মোটেও ঠিক নয়।’