সত্যিই বন্ধ হোক নারীর প্রতি সহিংসতা

99

তাওহীদুল ইসলাম নূরী

নানা আয়োজন উৎসবের মধ্য দিয়ে ২৫ নভেম্বর উদযাপিত হল আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস । সাধারণত, বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি যে বৈষম্য এবং সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জানান দিতে প্রতি বছর এই দিনে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে । কিন্ত, সেই আদি থেকে নারীর প্রতি যে নির্মম, নিষ্ঠুর বৈষম্য তার তেমন একটা পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় নয়৷ বরং, নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে৷ যৌতুকের বলি হয়ে স্বামীর হাতে খুন, তুচ্ছ কারণে স্বামীর হাতে চোখ নষ্ট, কথায় কথায় তালাক, গণ পরিবহনে নিপীড়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চাকুরীর ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য আজও বিদ্যমান। প্রতি বছর এত উৎসবের মধ্য দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের পরও ‘ দিন দিন নারীর প্রতি বৈষম্য কেন বেড়ে চলছে ? ‘ এমন প্রশ্ন যখন জাগে, তখন উত্তরে উঠে আসে আমরা দিবস ভেদে দিবসের প্রয়োজনে নীতি কথা বলতে পছন্দ করি। কিন্ত, সেই নীতি কথা সমাজ, দেশ, পৃথিবীর মাঝে বাস্তবায়ন করার কাজকে বিরক্তবোধ করি।

তাইতো দেখা যায়, নারী যখন তালাক, যৌতুক, যৌন হয়রানি, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ প্রভৃতি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আদালতের দারস্থ হয়, তখন তাদের অধিকাংশের অভিযোগ শুনানি পর্যন্ত যায় না, গেলেও তা বাতিল হয়ে যায়৷ এক প্রতিবেদনে দেখা যায় এই কঠিন বাস্তবতার ফাঁদে ৯৭ শতাংশ নারী-ই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। আর, আদালত যখন সহিংসতার সাথে অভিযুক্তদের কঠোর হস্থে দমন না করে নিরব থাকে, তখন তা তাদেরকে সমর্থন করার মত হয়ে দাঁড়ায়৷ ফলে দিন দিন নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছেই৷ একশন এইড বাংলাদেশ এক সময় দেশের ২০ টি জেলায় সংগঠিত ২ হাজার ৮০০ টি নারী সহিংসতা ও সহিংসতার ফলাফল নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেই প্রতিবেদনে দেখা যায় একটি পরিবারের পক্ষে টাকা খরচ ও সময় দিয়ে মামলা পরিচালনা করা কঠিন। তাই, শতকরা ৯০ ভাগ মামলাই আলোর মুখ দেখে না৷ অথচ, আমরা যারা নারী দিবস কিংবা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের আয়োজন করে থাকি, সভা সমাবেশে নীতি কথার গল্প বলে থাকি, সকল সহিংসতা রোধে নারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকি তারা যদি সত্যিকারে নারীদের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতাম, তখন হয়ত এমনটা হত না। আর আমরা একটা বারও মাথায় আনি না যে, আমাদের উদাসীনতার ফলেই একদিকে যেমন ভুক্তভোগীরা নিরাশ হচ্ছে অন্যদিকে অভিযুক্তদের সংখ্যাও বাড়ছে৷

আবার দেখা যায় কর্মক্ষেত্র কিংবা বাহিরের অন্য কোথাও নয়, নিজ ঘরেই বেশীর ভাগ নারী অনিরাপদ। তাই নারীদের ব্যাপারে পরিবার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত সর্বত্র আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিচার বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে সব তদন্ত করে সহিংসতার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত নিপীড়কের বিরুদ্ধে শাস্তির যে বিধান আছে তা কার্যকর করতে হবে। আর তখনই সার্থকতা আসবে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের।

লেখক : তাওহীদুল ইসলাম নূরী, আইন বিভাগ ( অধ্যয়নরত ), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম। শাহারবিল সদর, চকরিয়া, কক্সবাজার।