কক্সবাজার সদর উপজেলার লবণশিল্প নগরী ইসলামপুরের উন্নয়ন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দৃশ্যমান কোনো কাজ নেই। ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা।
জনপ্রতিনিধিদের কথার ফুলঝুরি আর দেখানো অলিক স্বপ্নের বেড়াজালে বন্দি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। নির্বাচন যায় আর আসে, নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। কিন্তু জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন নেই।
সরকারের উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গার অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও বিগত ৩ বছরে দেশের অন্যতম এই শিল্পনগরীতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে।
স্থানীয় ছাত্রনেতা ছৈয়দ মোহাম্মদ তামিম জানিয়েছেন, ইসলামপুর ইউনিয়নের অন্যতম বাণিজ্যিক সড়ক নতুন অফিস শহীদ রিফাত সড়ক। প্রতিবছর চিংড়ি এবং লবণ উৎপাদন করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়। অথচ এই সড়কের বর্তমান অবস্থা নাজুক। চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
তার প্রশ্ন, দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে এতো বেশি উন্নয়ন করছে, কিন্তু কেন আমাদের এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে না? রিফাত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার অনুরোধ করেন তামিম।
এদিকে নিজ এলাকার সড়ক উপ সড়কগুলোর করুন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি দাবী করেন, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ৯ নং ওয়ার্ড পযর্ন্ত রাস্তা ঘাটের বর্তমান বেহাল অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতে পাকা রাস্তার অর্ধেকের বেশী নষ্ট।অথচ লবন শিল্প সমৃদ্ধ ইসলামপুর থেকে বৎসরে কোটি কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে যোগ হয়। চিংড়ি উৎপাদন করে বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানিতে বিশাল একটা অংশের দাবিদার।
তিনি জানান, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমরা শুধু ঠাকুর মার ঝুলির মত শুধু গল্পই শুনে যাচ্ছি। উন্নয়নের আংশিক সফলতাও নেই। আগের সেই বেড়াজালে বন্দি ইসলামপুর ইউনিয়ন। চিংড়ি উৎপাদন এবং লবণ পরিবহনের রাস্তাগুলো দেখলে মনে হবে একজন সুদক্ষ অভিভাবকহীন।
তিনি আরো জানান, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের প্রচেষ্টায় ১নং ওয়ার্ডের নুতন অফিস হতে বাঁশকাটা হাফেজখানা রাস্তার কার্পেটিং টেন্ডার হলেও ঠিকাদারের গাফেলতি এবং নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারনে গত ১বছরেও কাংখিত রাস্তার উন্নয়নের আলোর মুখ দেখেনি। চিংড়ি উৎপাদন খ্যাত নতুন অফিস হতে কৈলাসঘোনা (বঙ্গবন্ধু সড়ক) চিংড়ি ঘের পযর্ন্ত রাস্তার ১ কিলোমিটার টেন্ডার এর আওতায় আসলেও নামেমাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং আলোর মুখ দেখেছে ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জনগণ। পক্ষান্তরে জনবহূল ৫ নং ওয়ার্ডের জুমনগরের কিছু অংশ পাকা রাস্তার কাজ হলেও নতুন অফিস থেকে ৪নং ওয়ার্ডের রিফাত সড়কের অবস্থা আরো করুন। স্বাভাবিক চলাফেরা করা খুবই কষ্টের।এমনি করে ৪নং ও ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যেম নাপিতখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা, ৬ নং ওয়ার্ড বামন কাটার কিছু অংশ, ৯ নং ওয়ার্ড পশ্চিম খাঁন ঘোনা সাইক্লোন শেল্টার পর্যন্ত রাস্তার করুন অবস্থা।
শাহজাহান চৌধুরী জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্ন রাখেন, ইউনিয়নের জন্য সরকারী বরাদ্দ, উপজেলা চেয়ারম্যানের বরাদ্দগুলো কোথায়?

Comments are closed.