সালাহউদ্দিন আহমদের মামলার রায় ৫ বারের মতো পিছিয়ে ১৫ নভেম্বর

104

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং শহরে অবস্থানরত বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মামলার রায় ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রদান করার কথা থাকলেও আদালত পঞ্চম বারের মত রায় পিছিয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর রায় প্রদানের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারন করেছেন। ভারতের বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ইষ্ট খাসিয়া হিল জজ কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মিঃ ডিজি খার সিং ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তাঁর এজলাসে উঠে মামলাটির রায় এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেননি বলে জানান। তাই রায়ের জন্য বিচারক এই নতুন তারিখ ধার্য্য করেন। এসময় আদালতে সালাহউদ্দিন আহামদ, তাঁর আইনজীবী মিঃ এস পি মোহন্ত, সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত বলে সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যাক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদের আইনজীবী মিঃ এসপি মোহন্ত বলেছেন, প্রায় ৬ মাস আগে মামলাটির রায় পূর্ববর্তী সকল আইনী কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও পর পর ৫ বার রায় ঘোষনার তারিখ পিছিয়ে যাওয়া দুঃখজনক। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বেচ্চায় ভারতে অনুপ্রবেশ করেননি, তাঁকে অপহরনকারীরা জোর করে চোখ বাঁধা অবস্থায় শিলং গলফ লিংক মাঠে এনে রেখে দিয়েছে, সেটা আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের আইনজীরীরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন। মিঃ এসপি মোহন্ত জানান, মামলা শুনানীর সময় আদালতে তাঁরা এ সংক্রান্ত জাতি সংঘের কার্যবিবরনী, আমেরিকার মানবাধিকার রিপোর্ট, আ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট, যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের আর্লিডে মোশান, ভারতের উচ্চ আদালতের রেফারেন্স, বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের আদেশ সহ আন্তজার্তিক বিভিন্ন আইন ও নজীর আদালতে উপস্থাপন করে আদলতকে সন্তুষ্ট করেছেন। এমনকি মেঘালয়ের একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা স্বয়ং তাঁর সাক্ষ্যদানকালে সালাহউদ্দিন আহমদ একজন সাবেক মন্ত্রী, তিনি কখনই ভিন্ন দেশে অনুপ্রবেশ করার লোক নয় বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত ও আইনী যুক্তি উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আইনজীবী মিঃ এসপি মোহন্তের দৃঢ় বিশ্বাস, একটু দেরীতে রায় হলেও এ মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদ বেকসুর খালাস পাবেন। এদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সচিব মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হেলালী জানান, মামলাটি নিষ্পত্তি পূর্বক সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আসার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। এ প্রতিবেদকের কাছে মুঠো ফোনে শিলং এর আদলতে ন্যায়, নিরপেক্ষ ও সুষ্ট বিচারের ব্যাপারে সালাহউদ্দিন আহমদ খুবই ইতিবাচক ধারণা পোষন করছেন। তাই শিলং আদালতে তিনি ন্যায় বিচার পেয়ে শীঘ্রই মুক্ত হয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদী। তিনি দেশবাসীর কাছে এজন্য আন্তরিকভাবে দোয়া ছেয়েছেন।