কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সিসিইউ উদ্বোধন

154

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য যাত্রা করা করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি সিসিইউর নাম ফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধনের পরে ঘুরে দেখেন সিসিইউ এবং আইসিইউ চিকিৎসা কার্যক্রম। এরপর মন্ত্রী হাসপাতালের নবজাতকের বিশেষ ইউনিটে যান।
এ সময় সাথে ছিলেন- সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাশেম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবদুস সালাম, তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পুচনু, সহকারী পরিচালক ডাঃ সুলতান আহমদ সিরাজী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন আব্দুর রহমান চৌধুরী, আবাসিক চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহজাহান। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত ৪ শয্যার সিসিইউর কার্যক্রম ২৭ আগষ্ট থেকে শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোগি সেবা পেয়েছে।
দেশের প্রথম জেলা হাসপাতাল হিসেবে এ হাসপাতালে সিইউ প্রতিষ্ঠাকে জেলার স্বাস্থ্য সেবা খাতে ‘নতুন দিগন্তের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন রক্ষায় তাৎক্ষনিকভাবে এই ইউনিটে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।
জেলা সদর হাসপাতালের বর্তমান মূল ভবনের চার তলায় ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) পাশে স্থাপন করা হয়েছে সিসিইউ। ইউনিটের মূল ফটকে লাগানো হয়েছে সাইনবোর্ড। জাপানের জাইকার সার্বিক সহায়তায় সিসিইউতে এক কোটি টাকার বেশি যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রী যুক্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে সিসিইউতে ৩ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৪ জন মেডিকেল অফিসার এবং ৮ জন সেবিকা (নার্স) দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ।
কাঙ্খিত এই সিসিইউতে অত্যাধুনিক মনিটর, বেড, সর্বাধুনিক মেডিকেল চিকিৎসা থাকছে। ইকোকার্ডিওগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষাও করা হবে। তিনি জানান, ক্যাথল্যাব না থাকায় এন্জিওগ্রাম বা অপারেশন এখনও চালু হবেনা। আমরা পর্যায়ক্রমে এ ইউনিটকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পু চ নু জানান, এই হাসপাতালে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য করোনারী কেয়ার ইউনিট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পূরণ হয়েছে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন। প্রাথমিকভাবে চার শয্যা নিয়ে এ ইউনিট চালু করা হলেও পরবর্তীতে শয্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে একটি তীব্র অবস্থা হয়। ওই অবস্থায় এসব রোগীকে সিসিইউতে রাখা হয়। হৃদরোগীকে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন জরুরী। সিসিইউতে এই কাজটাই করা হয়।
ডা. পু চ নু বলেন, সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের প্রথম জেলা হাসপাতাল হিসেবে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা হয়। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সিসিইউ চালুর ঘটনাও দেশে প্রথম। চিকিৎসা সেবা খাতে কক্সবাজারবাসীর জন্য এটি বিশাল প্রাপ্তি বলা যায়।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে একটি তীব্র অবস্থা হয়। ওই অবস্থায় এসব রোগীকে সিসিইউতে রাখা হয়। হৃদরোগীকে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন জরুরী। সিসিইউতে এই কাজটাই করা হয়।