খসরুর হোটেলে দুদকের অভিযান, কাগজপত্র জব্দ

96

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মালিকানাধীন হোটেল সারিনার বেশ কিছু কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে জব্দ করেছে দুদক। সংস্থাটির তলবকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে খসরুর রিট খারিজের পরদিন মঙ্গলবার এই অভিযান চালানো হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রাজধানীর বনানীর এই হোটেলটি থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়। আরও কিছু চাওয়া হয়েছিল। তবে তা দিতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে সেগুলো দুদক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এর আগে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হোটেল সারিনায় অভিযান চালায়। অভিযান চলে বিকাল ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য ঢাকাটাইমসকে জানান, জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সেখানে লেনদেন, ক্রয়-সংক্রান্ত ও হোটেলটি পরিচালনা কীভাবে হচ্ছে সে সংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়। আরও কিছু তথ্যের বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ সময় চাইলে তাদের সময় দেয়া হয়।

গত ১৩ আগস্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হতে চিঠি দেয়া হয়।

চিঠি সূত্রে জানা যায়, বেনামে পাঁচতারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনসহ মানিলন্ডারিং করে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে। এছাড়া স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ নিজ নামে শেয়ার কেনাসহ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

পরে আমীর খসরুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হওয়ার সময় দেয়া হয়। তবে সাবেক এই মন্ত্রীকে দুই দফা তলব করা হলেও দুদকে হাজির হননি। বরং তিনি দুদকের তলবকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। তবে গত রবিবার ওই রিট সরাসরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার চেম্বার বিচারপতি ইমান আলী হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত করেননি। এর ফলে আমীর খসরু মাহমুদকে দুদকে হাজির হতেই হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।