রফতানি বৃদ্ধিতে দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষের ব্যবস্থা করা হবে: মৎস্যমন্ত্রী

138

শিগগিরই বাংলাদেশেও বিশ্বখ্যাত ভেনামি নামের সাদা চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতাযাচাই করে বাগদাচিংড়ির পাশাপাশি পরীক্ষামূলক চাষের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।মঙ্গলবার বিকালে মহানগরীর হোটেল পূর্বাণীতে বিএফএফইএ ও বিপিসির যৌথ উসদ্যোগে ‘হিমায়িত চিংড়ি চাষবৃদ্ধি এবং আনুষাঙ্গিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী একথা বলেন।মৎস্য মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চিংড়িচাষে অন্যান্যদেশের সাথে আমরাও প্রতিযোগিতা অংশ নিতে পারবো। চিংড়িচাষের অবনতির জন্য তিনি উদ্বেগও প্রকাশ করেন।তিনি বলেন, খাদ্যে স্বংয়সম্পূর্ণতার পর মাছ ও মাংসেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। খাদ্যে স্বংয়সম্পূর্ণতা  বলতে আমরা চাল/ভাতকে বুঝালেও আসলে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজিও খাদ্যের অংশ। তাই রপ্তানিযোগ্য চিংড়িমাছেও আমাদের অগ্রগতি অর্জন করা জরুরি। আমরা ইতোমধ্যে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি এগিয়েছি, ডিমেও আমাদের স্বংয়সম্পূর্ণ হতে হবে।বক্তারা রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি চাষের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতাসহ নানাকারণে উৎপাদনহ্রাস পাবার তথ্য তুলে ধরে অনতিবিলম্বে সরকারকে এদিকে নজর দেবার আহবান জানান। অন্যথায় চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা বিগত চার বছরের হিমায়িত চিংড়িরপ্তানির নিম্নমুখী চিত্র দিয়ে বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের ৪৭ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি হলেও ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৫১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৪ হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন, ৪৭২ মিলিয়ন ডলারের ৪০ হাজার ২৭৬ হাজার মেট্রিক টন ও ৪৪৬ মিলিয়ন ডলারমূল্যের ৩৯ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন।সেমিনারে চিংড়িচাষের ওপর দুটি প্রবন্ধপাঠ করে মৎস্য অধিদফতরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক অফিসার চিত্তরনঞ্জন বিশ্বাস ও সাবেক উপপরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার। দেশি বাদাচিংড়ির চেয়ে ভেনামিচিংড়ির উৎপাদনখরচ ২০-৩০% কম থাকায় তারা দুনিয়ার অন্যান্য দেশের ন্যায় এটিকেও ব্যাপকভাবে চাষাবাদের ওপর জোর দেন।বিএফএফইএ এর সভাপতি আমিল উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও কক্সবাজার-২ এর এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহণঅসচিব আব্দুস সামাদ, বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অতিঃ সচিব মুন্সী সফিউল হক প্রমুখ।