ভারতের পেটে বনি ইস্রাইল

207

এ.এম.জি.ফেরদৌস
ভারতের ইহুদি কন্যা হেলেনাদের কথা শুনে আমার মনের মধ্যে ভয় ঢুকে গেল, মনে হল ওরা যা বলছে তা এক বর্ণও মিথ্যা নয়। ওরা ওদের প্রত্যেকটা কথা এত দৃঢ়তার সাথে বলছিলো যে অবিশ্বাস করে উরিয়ে দেয়া যাচ্ছিল না। গোটা ভারতবর্ষে ওরা চষে বেড়াচ্ছে কিনা একটু পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
আমি হেলেনা কে বললাম, আজ কুতুব মিনার দেখা এ পযর্ন্ত ই শেষ,কাল একটু আজমীর যেতে চা্িচ্ছ ,তোমাদের মত এ রকম ভাল দক্ষ বন্ধু বা গাইড পেলে ভাল হত। আজমীর শরীফ তোমাদের কোন বন্ধু আছে নাকি ?
কি যে বলেন দাদা- গোটা ভারত বর্ষে এমন কোন স্থান নেই যেখানে আমাদের লোক নেই বলল হেলেনা।
আমি বুঝতে পারলাম ওদের নেট ওয়ার্ক অনেক স্ট্রং। এমন সময় কুতুব মিনারের ভিতরে হৈ চৈ শোনা গেল। আমি তাড়া তাড়ি উঠে দাড়ালাম।পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম, একটা লোক এসে দু,আংগুলে জোরে শিষ বাজালো এ্যামবুলেন্সের মত একটা গাড়ী তার সামনে এসে দাড়াল ,মুখে রুমাল বাধা কয়েকটা লোক একটা লোককে চোরের মত টেনে গাড়ীতে তুলে নিয়ে ভোঁ করে চলে গেল। পিছনে আরেকটা দামী গাড়ী এসে দাড়ানোর সাথে সাথে হেলেনা সহ অন্য মেয়েরা ও গাড়ীতে উঠে গেল ।আমার কাছ থেকে তাদের সম্মানী নেয়া তো দুরের কথা বিদায় ও নিলনা। আমার আর বুঝতে বাকি রইলোনা যে, এ কিডনাফ হেলেনা গ্রুপ মানে ইহুদিদের ই কাজ। আমি তাড়ি তাড়ি দিল্লির উদেশ্যে রওয়ানা হলাম।পুরো পথ ওদের কথা, ওদের শিকার করা লোকটার কথা ভাবছিলাম।
পরের দিন সকালে হোটেলের গাড়ী নিয়ে আজমীরের উদেশ্যে রওয়ানা হলাম। দিল্লি টু আজমীর প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। গাড়ী ভাড়া আফ এন্ড ডাউন প্রাইভেট ১২০০০/ টাকা। ভারত সর্ম্পকে আমার ধারণা বলদে গেছে ,আমি মনে করে ছিলাম ভারত প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দেশ মানেই ঘনবসতির দেশ।কৃপন, গরীব,লেট্রিন নেই,খোলা আকাশে পায়খানা করে কিন্ত আমার দেখা বর্তমান ভারত আর চিন্তার ভারত এক নয়।ভারতের কোলকাতা কিছুটা ঘনবসতি বটে,আগ্রা,দিল্লি,আজমীর,বোম্বে এ সব শহরের বর্তমানের উন্নয়ন তাক লাগানোর মত। আমি শুধু একটা রাস্তার বর্ননা দিলেই বুজতে পারবেন পুরো ভারতের চিত্র।
দিল্লি টু আগ্রা তাজমহল প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার, রাস্তার প্রশস্ততা ১৫০ ফুট,মাঝ খানে আইল্যান্ড, রাস্তায় দিনের বেলায় প্রাইভেট ছাড়া অন্য কোন গাড়ী চলাচল নিষেধ।রাস্তার পাশে ৪/৫ মাইলের মধ্যে কোন গ্রাম নেই,অর্থ্যাৎ এ পাশে ও পাশে ধূ ধূ মাঠ আর মাঠ। রাস্তার পাশে কোন দোকান পাট ও নেই। প্রায় ১০০ মাইল পর পর প্যাট্রোল পাম্প, কফি হাউজ ,রেষ্টুরেন্ট আছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন চিন্তার ভারত আর বাস্তব ভারত এক নয়।
প্রায় ৫ ঘন্টা চলার পর আজমীর এসে পৌছলাম। লোকে লোকারণ্য শহর,অসংখ্য দর্শনাথীর ভিড় এখানে। গাড়ী অনেক দুরে রেখে আসতে হবে।এটা কোন মুসলমানের কবর স্থান নাকি হিন্দুদের কবর স্থান,নাকি বিদেশীদের কোন পূণ্য ভুমি এটা বোঝা মুসকিল। কারন সব ধর্মের মানুষ এখানে জমায়েত হয়েছে। সবাই ভক্তি ভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। কে কি দিচ্ছে আর কে কি নিয়ে র্ফিছে তা বোঝা মুসকিল। আমি কি করব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। দর্শকের মত দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম হঠাৎ একটা লোক আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল,আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই ভীড়ের মধ্যে থেকে টেনে এক পাশে নিয়ে এল। আমি ভয়ে চিৎকার করতে চাইলাম কিন্ত গলা থেকে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। লোকটা অনেকটা নিরিবিলি জায়গায় এনে আমাকে দাড় করিয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে বলল স্যরি সার আমি ইসহাক রবিন।
হু আর ইউ ? আর ইউ মুসলিম ? ডু ইউ নো টু মি ? এক নিঃশ্বাসে প্রশ্ন করলাম আমি।
স্যরি স্যার আমি মুসলিম নই। আমি দিল্লির হেলেনার বন্ধু।
এবার আমি ব্যপারটা বুঝতে পারলাম কিন্ত তুমি আমাকে চিনলে কিভাবে ?
স্যার দিল্লি থেকে আপনার ছবি পাঠানো হয়েছে।
আমার ছবি ? আমার ছবি ওরা কোথায় পেলো ?
জানি না স্যার-বলল ইসহাক রবিন।
তুমি বলছিলে তুমি মুসলিম নও অথচ তোমার নাম টা তো মুসলিমদের।
স্যার আমি ভারতীয় ইহুদি। এবার আমার আর বুঝতে বাকি রইল না কিছুই।
কিন্তু আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না ওরা আমাকে ফলো করছে কেন ? মনের পর্দ্দায় গত কালকের কিডনাফ হওয়ার দৃশ্যটা ভেসে ওঠল। মনের মধ্যে ভয় ঢুকে গেল। ওদের নেট ওয়ার্ক সত্যিই স্ট্রং।
স্যার আজ বোম্বে থেকে বড় বড় স্টাররা এসেছে, তাই ভীরটা একটু বেশি।
ও হ্যা -তাই হবে হয়ত কিন্ত এই ভীরের মধ্যে তুমি আমাকে খুজে বের করলে কি ভাবে ?
কি যে বলেন স্যার এটা কোন ব্যাপার হল ,এখানের সব গাইডদের মোবাইলে আপনার ছবি আছে।
তার মানে-আমার ব্যাপারে নিশ্চই ম্যাসেজ দিয়েছে যে গাইডের টাকা না দিয়ে গত কাল পালিয়েছিলাম ? কিন্ত বিশ্বাস কর আমি গাইডদের সম্মানী না দিয়ে পালাইনি ? ওরা ই হঠাৎ উধাউ হয়ে যায়। কৈফিয়াতের ভংগিতে কথাগুলো বলছিলাম।
ইসহাক রবিন বলল আপনার জন্য একটা ম্যাসেজ আছে। ওর হাত থেকে মোবাইল নিয়ে পড়া শুরু করলাম ,দাদা আপনি আমার শত্রু পক্ষের একজন কারন আমরা সব মুসলমানদের শত্রুমনে করি। আপনার ভিজিটিং কার্ড থেকে নাম নিয়ে আপনার ফেইজবুক আইডিতে ঢুকেছিলাম, আপনি একজন চরম ইহুদি বিদ্দেষি মানুষ। আপনি আমাকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, বলেছিলেন আপনি কোন গোয়েন্দা বা সাংবাদিক নন। কিন্ত আপনি ওয়ান লাইন নিউজ পোর্টাল সহ দুইটা পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক। আপনার সরল ভাষায় মুগ্ধ হয়ে আপনার সাথে অনেক কথা বলেছি, আমাদের কথাগুলো যদি রেকর্ড করে থাকেন তবে তা মুছে ফেলুন, নইলে আপনার ক্ষতি হবে। কিন্ত আমি ইসহাক রবিনদের বলেছি আপনার কোন ক্ষতি না করার জন্য। কারন আমি আপনাকে দাদা ডেকেছি। দাদা ডাকটার মাঝে আমার এক সাগর জল আর ইতিহাস লুকিয়ে আছে। আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার ছবি কোথায় পেলাম ? হ্যা আপনার মত লোকদের ভাববার ই কথা , একনজর দেখলেই বুঝবেন ছবিগুলো আপনার ফেইজবুক থেকে নেয়া।
আপনি ওখান থেকে তাড়া তাড়ি অন্য কোথাও চলে যান, পারলে দ্রুত দেশে ফিরে যান। আমাদের অপারেশন গ্রুপের হাতে পড়লে আর রক্ষা নেই। চলবে-