যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে আসাদ-বিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে এখন আরো আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, সিরিয়ার সঙ্গে যারা সম্পর্ক ‘পুনঃস্থাপন’ করতে চায়, তাদের ক্ষেত্রে শর্ত প্রযোজ্য হবে।

গেল রবিবার দেশটির ডজনসংখ্যক কূটনীতিকের সামনে বক্তব্য রাখেন বাশার আল-আসাদ। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা কয়েকটি দেশের প্রতি পরিষ্কার বার্তা দেন এই বলে যে, তার সরকার এমন কোনো দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে না, ‘যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেনি’।

কয়েকটি আরব ও ইউরোপীয় দেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এরা জঙ্গিবাদের মদদদাতা।

আসাদের এতটা দ্ব্যর্থহীন হবার কারণ আছে। একজন জিহাদি বার্সেলোনায় সাধারণ মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে ১৪ জনকে হত্যা ও শ’খানেককে আহত করার ঘটনার তিনদিন পর তিনি বক্তব্যটি দিলেন। এ ধরনের হামলার ঘটনা তার জন্য আশীর্বাদ বলেই মনে করা হয়।

তাতে যারা এতদিন তার আইএসবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে আসছিলেন, হামলার শিকার হয়ে তারাই এখন তাকে সহযোগী হিসেবে দেখা শুরু করবে। আসাদ নিজেই বলছেন, ‘এই সত্যটাই পশ্চিমা রাজনীতিকদের ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রও সিরিয়ার বিষয়ে আপাতত  নতুন কৌশল নিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, আসাদবিরোধীদের সহযোগিতায় সিআইএ-র একটি বিশেষ উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অবশ্য সিআইএ-র এই বিশেষ প্রোগ্রাম তেমন কোনো সাফল্য না পাওয়ায় মূলত এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এও ঠিক যে, রাশিয়ার সঙ্গেও সিরিয়া বিষয়ে আগের চেয়ে সহনশীল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির স্টেট সেক্রেটারি রেক্স টিলারসন বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চায় আসাদ সরকারের পতন হোক, তবে সিরিয়ায় একটি স্থিতিশীল অবস্থা তৈরির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়েই একমত।

অনেকের চোখে, জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ওবামা প্রশাসনের রাজনৈতিক কৌশল বিতর্কিত। ট্রাম্প প্রশাসনও সেক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইন্সটিটিউট ফর স্টাডি অফ ওয়ার’-এর একটি গবেষণায় দেখাচ্ছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গজিয়ে ওঠা ‘সখ্য’ ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, রুশ-ইরান কোয়ালিশনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই গভীরতর সখ্য কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখছে না সুন্নি আরবীয়রা। আর ঝুঁকিটা সেখানেই।

সব মিলিয়ে আসাদ যে আরো কিছুদিন ক্ষমতায় থাকছেন এটা ধরেই নেয়া যায়। জিহাদি মতবাদের বিরোধী হিসেবে তিনি তার দৃঢ় অবস্থান সফলভাবেই পাকাপোক্ত করেছেন।

তবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নব্য ‘জোট’ এ অঞ্চলে সংকট ও জিহাদের শঙ্কা আরো বাড়াবে বলে সুন্নিরা মনে করে থাকতে পারেন। যদি তাই হয়, বিশ্লেষকদের ধারণা, এখনকার সংকট কেবল ভোরের আলো। প্রকৃত ভয়াবহতা এখনো বাকি।

বাড়ছে আইএসের হত্যাযজ্ঞ

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা বলছে যে, ইরাক ও সিরিয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়লেও আইএস-এর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০১৬ সালে ইসলামিক স্টেটের নামে ১,৪০০টি হামলা হয়েছে এবং ৭,০০০ মানুষ মারা গেছেন, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২০ ভাগ বেশি।

সবশেষ বার্সেলোনায় ভ্যান গাড়ি ও রাশিয়ায় ছুরি দিয়ে হামলার ঘটনাও আইএস ঘটিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে আইএসের অনুসারীরা অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছে গবেষণাটি।

১,৪০০ হামলার মধ্যে বিভিন্ন দেশে তারা কমপক্ষে ৯৫০টি হামলা করেছে এবং ৩,০০০ মানুষ হত্যা করেছে। উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশ, লিবিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ফিলিপিন্সের কথা উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটিতে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Comments are closed.